আগামী ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর-হোসেনপুর) আসনে জমে উঠেছে রাজনৈতিক মাঠ। নির্বাচনী প্রস্তুতিতে এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক ডজন, একক প্রার্থী দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী। গণসংযোগে সক্রিয় অন্য ছোট দলগুলোর প্রার্থীরাও।
ভোটারদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন নির্বাচনী প্রস্তুতি। দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকা মানুষ এখন ভোট দিতে মুখিয়ে আছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
১৯৯১ সালে কিশোরগঞ্জের সাতটি আসনের মধ্যে বিএনপি জয়লাভ করে ৫টিতে, বাকি দুটি পায় আওয়ামী লীগ। এরপর ২০০১ সালেও বিএনপি জেতে দুটি আসনে। বর্তমানে জেলার ছয়টি আসনেই চলছে নির্বাচনী আলোচনা ও প্রস্তুতি। যদিও জামায়াতের কেউ কখনো জয়ী হয়নি, এবার তারা পুরোদমে মাঠে নামছে।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন:
মো. রেজাউল করিম খান চুন্নু, সাবেক স্পেশাল জজ ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি
খালেদ সাইফুল্লাহ (ভিপি সোহেল), সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি
রুহুল হোসাইন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি
মাজহারুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক
এডভোকেট শরীফুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান
আঈম ওয়ালী উল্লাহ রাব্বানী, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক
মাসুদ হিলালী, সাবেক এমপি
হাজি ইসরাইল মিয়া, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক
আবু তাহের মিয়া, সাবেক পৌর মেয়র
ব্যারিস্টার আতিকুর রহমান
মো. ওমর ফারুক, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, সুপ্রিম কোর্টের যুগ্ম সম্পাদক
অন্যান্য দলীয় প্রার্থী:
জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মোসাদ্দেক ভূঁইয়া
গণঅধিকার পরিষদের আবু হানিফ
খেলাফত মজলিসের মাওলানা হিফজুর রহমান খান
সিপিবির অ্যাডভোকেট মো. এনামুল হক
বাম জোটের অবস্থান:
সিপিবি সভাপতি আব্দুর রহমান রুমী বলেন, নির্বাচন যতই হোক, আমরা অংশ নেব। তবে সমঝোতা ভিত্তিতে প্রার্থী নির্ধারণ হতে পারে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম জানান, “কেবল কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী রয়েছে। অন্যান্য আসনে একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খোঁজখবর রাখছেন এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থীই মনোনয়ন পাবেন।
ভোটার সংখ্যা:
এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৫ হাজার ৫১১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৬১ হাজার ৪১৩, নারী ২ লাখ ৫৪ হাজার ৯৬ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২ জন।
ভোটাররা বলছেন, “আমরা বহুদিন ভোট দিতে পারিনি। এবার আমরা নিজেরা ভোট দিয়ে যোগ্য প্রার্থীকে বিজয়ী করতে চাই।
উল্লেখযোগ্য প্রেক্ষাপট:
এই আসনের সাবেক এমপি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তার মৃত্যুর পর বোন ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি এমপি হন। বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এলাকায় অনুপস্থিত, দলীয় কার্যালয়ও ভেঙে ফেলা হয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
