রাজধানীর মিরপুরের ফুটপাতজুড়ে গড়ে ওঠা সহস্রাধিক অস্থায়ী দোকানে অবৈধ ও অনিরাপদ বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এই অব্যবস্থাপনা বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা দোকানগুলোতে সন্ধ্যার পর থেকেই আলো জ্বালিয়ে কেনাবেচা চলে। আলোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের তার ও ডেসকোর বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে নেওয়া অননুমোদিত সংযোগ। ফলে একটু অসাবধানতাই বড় ধরনের দুর্ঘটনায় রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সরেজমিনে মিরপুর ১, ২, ১০, ১১ ও পল্লবী এলাকার বিভিন্ন সড়কে ঘুরে দেখা যায়, মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট, মুক্তবাংলা মার্কেট, বাগদাদ মার্কেট, শাহ্ আলী শপিং কমপ্লেক্স এবং ফেয়ার প্লাজার আশপাশের ফুটপাত ও সড়ক দখল করে বসেছে হাজারো দোকান। এসব দোকানে তিন থেকে পাঁচ হাত জায়গার মধ্যে চার থেকে দশটি পর্যন্ত বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালানো হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রতিটি বাতির জন্য তারা দৈনিক ১০ টাকা করে বিল পরিশোধ করেন।
মিরপুর এক নম্বরের এক ব্যবসায়ী জানান, “সিটি করপোরেশন ও পুলিশের অভিযানে কয়েকবার ফুটপাত মুক্ত হলেও কয়েকদিন পরই আবার আগের চেহারায় ফিরে আসে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক দোকানদার বলেন, “আমার দোকানে পাঁচটা বাতি আছে, প্রতিটির জন্য ১০ টাকা করে দেই। তবে সংযোগটা কিভাবে আসে, সেটা আমি জানি না।
এদিকে স্থানীয় সূত্র জানায়, একেকটি বাজার এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলে। যার বেশিরভাগই নেয়া হয় সরাসরি বিদ্যুৎ পোল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ কায়দায়।
বিষয়টি স্বীকার করে ডিএনসিসির অঞ্চল-২ এর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা একাধিকবার এই অবৈধ সংযোগ বন্ধে অভিযান চালিয়েছি। কিন্তু কিছু অসাধু চক্র সিটি করপোরেশনের নাম ভাঙিয়ে আবারো সংযোগ দিয়ে দেয়। সমস্যা নিরসনে ডেসকোসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, ফুটপাতে জমে থাকা পানির সঙ্গে খোলা বৈদ্যুতিক তার যে কোনো সময় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব অবৈধ সংযোগ বন্ধ ও বিকল্প নিরাপদ আলোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
