পাড়া-মহল্লার হোটেলে বিক্রি হচ্ছে মৃত মুরগি! বেরিয়ে এল ভয়াবহ খাদ্য-প্রতারণা চক্র
রাজধানীর মিরপুর-আশুলিয়া সংলগ্ন গুদারাঘাট এলাকার একটি গ্যারেজে দীর্ঘদিন ধরে কার ওয়াশিং সেন্টারের আড়ালে মৃত মুরগি বেচাকেনা হচ্ছে— এমন অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। এসব মুরগি পরে শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার হোটেল, ফুটপাতের বার্গার দোকান, চাপের দোকানে বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি স্থানীয়রা গুদারাঘাট এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে সুজন (২৫) নামের এক যুবককে বিপুল পরিমাণ মৃত মুরগিসহ আটক করে। তিনি জানান, এই মুরগিগুলো গ্যারেজ থেকে কিনে এনে দিয়াবাড়ি এলাকার বিআইডব্লিউটিএ ল্যান্ডিং স্টেশনের নিকটবর্তী একটি জাহাজে পরিষ্কার করে বিভিন্ন হোটেল ও দোকানে সরবরাহ করেন। তার ভাষ্যমতে, মুরগি পরিবহনের সময় যে মুরগিগুলো আহত হয়ে মারা যায় বা ডানা-পা ভেঙে যায়, সেগুলোই কিনে নিয়ে ফেরি করে বিক্রি করেন তিনি।
সুজন আরও জানান, এসব মুরগি সাধারণত শহরের ছোট-বড় হোটেল, ফুটপাতের বার্গার ও চাপের দোকানগুলোতে সরবরাহ করা হয়। এই তথ্যে স্থানীয়রা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং গ্যারেজটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তবে অভিযুক্ত গ্যারেজ মালিক ওলি মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কেউ যদি কুকুর-বিড়াল খাওয়ানোর জন্য মরা মুরগি কিনে নিয়ে হোটেলে বিক্রি করে, সেটা আমার দায় নয়। অনেক গ্যারেজেই মরা মুরগি বিক্রি হয়।”
অন্যদিকে, ওই গ্যারেজে কর্মরত জাহাঙ্গীর মাতবর ঘটনাটির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “প্রতিদিন বিভিন্ন পিকআপ ভ্যানে করে আসা মুরগির মধ্যে কিছু মুরগি মারা যায়। সেগুলো বস্তায় ভরে রাখা হয় এবং ৫০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। আগে ভাবতাম কুকুর-বিড়ালের জন্য নেওয়া হয়, এখন শুনছি হোটেলে খাওয়ানো হয়, এটা হলে খুবই খারাপ ও অবশ্যই শাস্তিযোগ্য অপরাধ।”
স্থানীয়রা জানান, বিআইডব্লিউটিএ’র সরকারি জায়গা দখল করে গ্যারেজটি পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিদিন গ্যারেজটিতে ২০-২৫টি মুরগি পরিবহনের পিকআপসহ শতাধিক গাড়ি ওয়াশ করা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গাড়ি ওয়াশের আড়ালে চলছে মরা মুরগি বিক্রি, মাদক ব্যবসা ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড। কিন্তু প্রভাবশালীদের সংশ্লিষ্টতার কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি এতদিন।
এ বিষয়ে শাহ্ আলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, “এধরনের কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ আমরা এখনো পাইনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি:
১. মরা মুরগি বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা।
২. সরকারি জায়গা দখল করে পরিচালিত গ্যারেজ ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবসা বন্ধ করা।
৩. ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে হোটেল ও খাদ্যপণ্যের মান যাচাই।
৪. জনগণের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমাতে খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কার্যকর অভিযান।
সাধারণ ভোক্তাদের প্রতি সতর্কতা:
অতিরিক্ত সস্তায় বিক্রি হওয়া হোটেলের বার্গার, চাপ, ভুনা খিচুড়ি বা ফ্রাইড চিকেন জাতীয় খাবার সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
