ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, “পিআর (প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে নির্বাচন হতে হবে। প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সংস্কারও করতে হবে। দৃশ্যমান খুনি, জালেম ও টাকা পাচারকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।
সোমবার সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
চরমোনাই পীর বলেন, পিআর পদ্ধতির কথা শুনে অনেকে ঘুম হারাম হয়ে গেছে। তারা এখন অস্থির। কারণ এই পদ্ধতিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সংসদে যাওয়ার সুযোগ আর থাকবে না। যারা নিজেদের এবং দলের স্বার্থে সংবিধানকে ব্যবহার করেছে, তারা এখন ভয় পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সংবিধান বারবার নিজেদের মতো করে বদলানো হয়েছে। এটি যেন আর ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়, সে জন্য নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার জরুরি। ভোটারদের প্রকৃত মূল্যায়ন করতে হলে পিআর পদ্ধতিই কার্যকর। এতে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে, গুম-খুন-হয়রানি কমবে।
চরমোনাই পীর বলেন, ইসলামী আন্দোলন কখনোই খুনি-চাঁদাবাজদের সিঁড়ি হয়নি। দেশের টাকা বিদেশে পাচার করা, জনগণকে জিম্মি করে রাখা আর চলতে দেওয়া হবে না। ব্যক্তি ও দলের চেয়ে দেশ বড় এই নীতি আমাদের আদর্শ।
তিনি প্রশাসন, সাংবাদিক ও জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, এখন আর মানুষ দিনকে রাত বলে মানে না। কালোকে সাদা বলা অত সহজ নয়। সবাই জানে কার চরিত্র কেমন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি মুহাম্মাদ হাসানুজ্জামান সজিব।
বিশেষ অতিথি ছিলেন দলটির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি মোস্তফা কামাল, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এবং কেন্দ্রীয় প্রেডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন জামায়াত মনোনীত চুয়াডাঙ্গা-১ ও ২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল ও রুহুল আমিন, খেলাফত মজলিস চুয়াডাঙ্গা জেলা সভাপতি মুফতি সোয়াইব হোসাইন কাসেমী, জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রধান সমন্বয়কারী খাজা আমিরুল বাশার বিপ্লব, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম চুয়াডাঙ্গা জেলার সভাপতি মো. হাসানুজ্জামান রনি এবং হেফাজতে ইসলাম চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা মাহবুবুর রহমান গওহরী।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
