জাতীয় সংসদের আসন পুনর্বিন্যাসের খসড়া প্রস্তাবে ঢাকা-১৪ আসন থেকে কাউন্দিয়া ইউনিয়নকে বাদ দিয়ে ঢাকা-২ আসনে যুক্ত করার সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা এই সিদ্ধান্তে শুধু বিস্মিতই নন, বরং তা প্রত্যাহার না হলে গণআন্দোলন এবং ভোট বর্জনের হুমকি দিয়েছেন।
বুধবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, দেশের ৩৯টি সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তনের খসড়া প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে গাজীপুরে একটি আসন বাড়ানো এবং বাগেরহাটে একটি আসন কমানোর পাশাপাশি ঢাকা-২ আসনে কাউন্দিয়া ইউনিয়নসহ কয়েকটি এলাকা নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে।
রবিবার (২ আগস্ট) কাউন্দিয়া ইউনিয়নের শতাধিক বাসিন্দা গণমাধ্যমকে জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-১৪ আসনের আওতায় নাগরিক সেবা ভোগ করে আসছেন। এখান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ঢাকা-২ আসনে পাঠানো হলে তারা প্রতিদিনের যোগাযোগ, চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য সেবায় মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হবেন।
বিএনপি নেতা সোহেল খান বলেন,
“কাউন্দিয়া ইউনিয়নের মানুষ প্রতিদিন মিরপুরের সঙ্গে মাত্র ৫ টাকায় নদী পার হয়ে যোগাযোগ করেন। স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল সবকিছুই মিরপুরকেন্দ্রিক। এখন যদি কাউন্দিয়াকে ঢাকা-২ তে পাঠানো হয়, তাহলে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে আসবে।
প্রবীণ স্থানীয় ভোটার আব্দুল খালেক বলেন, সাভারেই যখন ছিলাম, তখন কোনো উন্নয়ন হয়নি। এখন শান্তিতে আছি। আবার যদি পুরনো জায়গায় পাঠানো হয়, তাহলে আবারও বঞ্চনার শিকার হবো। প্রয়োজনে আমরা ভোট বর্জন করবো।
স্থানীয় সাংবাদিক ভূঁইয়া কামরুল হাসান সোহাগ বলেন, ঢাকা-১৪ আসনে যুক্ত হওয়ার পর থেকে কাউন্দিয়া ইউনিয়নে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে। আমরা এখানেই থাকতে চাই। এই অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক আপিল করবো। দারুস সালাম থানা বিএনপির আহ্বায়ক এবং ঢাকা-১৪ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী এস এ সিদ্দিক সাজু বলেন,
“কাউন্দিয়া থেকে ঢাকা-১৪ আসনের দূরত্ব মাত্র ৩০০ ফুট, অথচ ঢাকা-২ এর দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। এভাবে সীমানা পরিবর্তন জনস্বার্থবিরোধী। এতে নাগরিকদের ব্যয় বাড়বে এবং তারা সেবা থেকেও বঞ্চিত হবেন।
সীমান্ত বদলে জনজীবনে শঙ্কা ঢাকা মহানগরের আশপাশের এলাকাগুলোর জন্য থানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং দৈনন্দিন কর্মক্ষেত্রের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমানা বদলের ফলে জনগণের সঙ্গে প্রশাসনের দূরত্ব বাড়বে এবং বাস্তব জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এমনটাই মত এলাকাবাসীর। আপত্তি জানাতে সময়সীমা ১০ আগস্ট পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের খসড়া অনুযায়ী, ১০ আগস্ট পর্যন্ত এই সীমানা পুনর্বিন্যাসের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানো যাবে। এরপর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করবে কমিশন।
এদিকে কাউন্দিয়া ইউনিয়নবাসী জানিয়ে দিয়েছেন, যদি তাদের দাবি না মানা হয়, তবে তারা গণআন্দোলন, কর্মসূচি ও ভোট বর্জনের মতো কঠোর পদক্ষেপে যেতে বাধ্য হবেন।
তাদের একটাই দাবি কাউন্দিয়া যেন আবারও ঢাকা-১৪ আসনের অংশ হিসেবেই থেকে যায়।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
