পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে বর্ষপূর্তির কর্মসূচি কাভার করতে গিয়ে নয়া শতাব্দী ও দ্য ডেইলি পোস্টের উপজেলা প্রতিনিধি সিয়াম রহমান হিমেল সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন। এতে হিমেলসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ বিএনপি ও যুবদলের তিন নেতাকে গ্রেফতার করেছে।
আহত সাংবাদিক সিয়াম রহমান হিমেল অভিযোগ করেন, পূর্ব বিরোধের জের ধরে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকেলে সুবিদখালী বাজার ব্রিজ এলাকায় উপজেলা বিএনপির বিজয় র্যালি কাভার করার সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সেজান জাকিরের নেতৃত্বে ৭–৮ জন তার উপর হামলা চালায়। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। হামলায় আরও চারজন আহত হন, যাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার সময় হামলাকারীরা হাসপাতাল চত্বরে আবারও হামলার চেষ্টা করে এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়।
ঘটনার পর রাতে সাংবাদিক হিমেল মির্জাগঞ্জ থানায় যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাহিদ হাসান ওরফে পরাগ মুন্সীকে প্রধান আসামি করে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের মোট ৭ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
পটুয়াখালীতে অবস্থানরত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মির্জাগঞ্জ ক্যাম্প কমান্ডারের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ও থানা পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে পরাগ মুন্সীকে দেশীয় অস্ত্রসহ ঘটনাস্থল থেকেই হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে সৌরভ মুন্সী (৩৫) ও জনি মুন্সী (৩৬) নামে আরও দুই আসামিকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “সাংবাদিক হিমেলের করা মামলার ভিত্তিতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।”
এই ঘটনায় মির্জাগঞ্জে সাংবাদিকদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রেসক্লাব ও বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ঘটনার নিন্দা ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
