বগুড়া: ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, আগামীর পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করবে মেধা। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে নতুন প্রজন্ম আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাদেরকে ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহারে দক্ষ করে তুলতে পারলে ২০৪১ সালের বাংলাদেশ হবে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দেশ। স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্য অর্জনে ডিজিটাল প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন স্মার্ট মানব সম্পদ গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই।
মন্ত্রী মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারী) বগুড়ায় করতোয়া মাল্টিমিডিয়া স্কুল এ্যান্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
এ সময় করতোয়া মাল্টিমিডিয়া স্কুল এ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান ও দৈনিক করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বগুড়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা: মকবুল হোসেন, বগুড়ার জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রশিদ, বিজয় ডিজিটাল-এর প্রধান নির্বাহী জেসমিন জুঁই এবং করতোয়া মাল্টিমিডিয়া স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ছামছুল আলম বক্তৃতা করেন।
ডাক ও টেলিযোাগাযোগ মন্ত্রী স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্মার্ট মানুষ চেয়েছেন উল্লেখ করে ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তুমি স্মার্ট হলে বাংলাদেশ স্মার্ট হবে। শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরের স্বপ্নদ্রষ্টা জনাব মোস্তাফা জব্বার বলেন, এখনকার যুগে বাস করে তোমরা যদি কোন ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহার করতে না পার তবে তোমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। প্রচলিত শিক্ষা প্রতিনিয়তই বদলাচ্ছে। ডিজিটাল প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে কাগুজে বইকে বিদায় করে ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে তোমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। সেদিন খুব বেশি দূরে নয়, যেদিন প্রতিটি শিক্ষার্থী ব্যাগে বই নয়, একটি ল্যাপটপ নিয়ে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতায় করতোয়া সম্পাদক বাংলাদেশের প্রকাশনার জগতে আনন্দপত্র বাংলা সংবাদ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা, সাংবাদিক মোস্তাফা জব্বার-এর অবদান তুলে ধরেন। তিনি বলেন ১৯৯০ সালে শীশার হরফের পরিবর্তে কম্পিউটারে বাংলা অক্ষরে পত্রিকা প্রকাশ করার পর আমার জীবন পাল্টে গেলো। ঠিক তেমনি করতোয়া মাল্টিমিডিয়া স্কুলের যাত্রা ১৯৯৮ সালে জনাব মোস্তাফা জব্বার এর হাত ধরেই শুরু হয়। আজ এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের অনন্য একটি ডিজিটাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর ঘটাতে পেরেছি। ৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে এই মাল্টিমিডিয়া প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু করেছিলাম আজ ভর্তির জন্য আসন দিতে পারছি না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিজয় ডিজিটালের সিইও জেসমিন জুই শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর বিষয়ক তার উপস্থাপনা তুলে ধরেন। তিনি শিক্ষার্থীদের ২০৪১ সালের স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মূল কারিগর আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক একটি দক্ষ জাতি বিনির্মাণ সম্ভব। তিনি প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যক্রম ডিজিটাল কনটেন্টে রূপান্তরে তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
পরে মন্ত্রী ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। মন্ত্রী অনুষ্ঠান শেষে বগুড়ার মহাস্থানগড়ে অবস্থিত প্রাচীন পুন্ড্রবর্ধণভূক্তির রাজধানী পুন্ড্রনগরের প্রাচীন নিদর্শন ঘুরে দেখেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
