নেপালে দুর্নীতি বন্ধের দাবি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া এই আন্দোলন রূপ নিয়েছে সহিংসতায়। রাজধানী কাঠমান্ডুসহ অন্তত সাতটি শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন অন্তত ১৯ জন। আহত হয়েছেন আরও তিন শতাধিক।
সবচেয়ে বেশি সহিংসতা হয়েছে রাজধানী কাঠমান্ডুতেই। পার্লামেন্ট ভবনে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তীব্র সংঘর্ষ হয়। পুলিশ টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট, জলকামান ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে গুলিও চালানো হয়। এতে শুধু কাঠমান্ডুতেই নিহত হয়েছেন ১৭ জন।
ঘটনার পর রাজধানীতে কারফিউ জারি করেছে সরকার। মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে দেশজুড়ে সভা-সমাবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পোখারা, ভুটওয়াল, ইতাহারি, দামাকসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ইতাহারিতে পুলিশের গুলিতে দুজন নিহত হন।
সংঘর্ষের পরপরই পদত্যাগ করেছেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক।
গত বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নীতিমালা না মানায় ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ও এক্সসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করে সরকার। কেবল টিকটকসহ পাঁচটি প্ল্যাটফর্ম কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারছে।
এই নিষেধাজ্ঞা ব্যবসা, পর্যটন খাত ও প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগে বড় বাধা সৃষ্টি করেছে। ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে দুর্নীতি ও শাসনব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা।
এক বিক্ষোভকারী বিবিসিকে বলেন, “আমরা আমাদের দেশকে ফিরে পেতে চাই। আমি এসেছি দুর্নীতি বন্ধ করতে।”
সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর। তারা ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে।
নেপালের তরুণরা এখন রাস্তায়, তাঁদের দাবি দুর্নীতি বন্ধ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। সরকারের কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এদিকে নিহত-আহতের ঘটনায় দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
