ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় পুলিশ কর্মকর্তা ও সেনা অফিসার পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা হলেন,মৌলভীবাজার ইফতেখার প্রকাশ শাহীন (২৪), তানভীর খন্দকার (৩৫) ও ফাহমিুদুল হাসান সাকিব (২৮)। এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর এক সদস্যকেও আটক করা হলেও তাঁকে সামরিক আইনে বিচারের জন্য ময়মনসিংহ ক্যান্টমেন্টে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জানা যায়, গত সোমবার রাত ৯ টায় একটি প্রাইভেটকার যোগে ভূয়া এএসপি ও সেনা বাহিনীর ভূয়া ক্যাপ্টেন পরিচয়ে মুক্তাগাছায় থানায় এসে অফিসার ইনচার্জের কক্ষে প্রবেশ করে এবং তার চেয়ারে বসে মৌলভীবাজার সদর থানার পুগুলিয়া গ্রামের কামরুল হাসানের পুত্র ইফতেখার শাহীন (২৪) নিজেকে এএসপি পুলিশ হেডকোয়ার্টার পরিচয় দেন। তার সাথে ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার মুজাটি চরপাড়া গ্রামের মোঃ হারুন অর রশিদের পুত্র সাব্বির আহমেদ সৌরভ (২৪) নিজেকে সেনা সদর দপ্তরের ক্যাপ্টেন পরিচয় দেন। তাদের গাড়ির ড্রাইভার নরসিংদী জেলার বেলাবো থানার আমান উল্লাহ পুত্র তানভির খন্দকার এবং ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার শ্যামপুর জগন্নাথ বাড়ির শহিদুল্লাহ পুত্র ফাহমিদুল হাসান (২৮) তাদের সহযোগী ছিলেন।
তারা মুক্তাগাছা থানায় ওসির কক্ষে বসে, গত একমাস পূর্বে ফাহমিদুল হাসান সাকিব পরিচয়ে এক ব্যক্তির নিকট ২ লাখ টাকা পাওয়ার অভিযোগ দায়ের ঘটনায় কেন উক্ত টাকা এখনও আদায় করা হয়নি কেন? এই মর্মে মুক্তাগাছা থানায় কর্মরত এসআই আমজাদকে শাসিয়ে তার সাথে অশালীন আচরণ করেন। তাদের এই আচরণে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সন্দেহ হলে তারা উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। কর্তৃপক্ষ তাদের পরিচয় নিয়ে চ্যালেঞ্জ করে তাদের দেওয়া পরিচয় ভূয়া বলে প্রতিয়মান হওয়ায় থানা পুলিশ তাদেরকে আটক করে। মুক্তাগাছা থানা এসআই আমজাদ হোসেন বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৯, তারিখ ২২/০৯/২০২৫ইং।
এদিকে সাব্বির আহমেদ সৌরভ সেনা সদর দপ্তরের ক্যাপ্টেন পরিচয়দানকারীকে সেনাবাহিনী তাদের হেফাজতে নিয়েছেন।
মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ রিপন চন্দ্র চন্দ্র বলেন, গ্রেপ্তারকৃত তিনজনের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ১৭০/৪১৯/৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। সৈনিক সৌরভকে সামরিক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সেনা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রতারক চক্রটি সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব খাটানো এবং আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছিল। এই ঘটনায় আরো কারো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরে বিকেলে তাদেরকে বিজ্ঞ আদালতে প্ররণ করা হয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
