পাহাড়ী জেলা বান্দরবানে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দিপনার মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছে বৌদ্ধধর্মালম্বী মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা।
আজ রোববার (০৫ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়েছে বান্দরবান পার্বত্য জেলায় মারমা সম্প্রদায়ের প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসব বা ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ।
প্রবারণা হলো আত্মশুদ্ধির অনুষ্ঠান, অশুভকে বর্জন করে সত্য ও সুন্দরকে বরণের উৎসব। আর এই উৎসবকে ঘিরে পুরা জেলা জুড়ে বিরাজ করছে সাজ সাজ রব।
আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে তিন মাস বর্ষাব্রত পালনের পর আসে প্রবারণা পূর্ণিমা। এই পূর্ণিমা তিথিতে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা নিজকৃত অপরাধ বা পাপ স্বীকার করে পরিশুদ্ধ হয়। প্রতিবছরই প্রবারণাকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি পল্লীগুলোতে চলে উৎসবের মাতম।
উৎসবকে কেন্দ্র করে শিল্পীরা রং এর প্রলেপ দিচ্ছেন রতে। বাঁশ, বেত আর কাগজ দিয়ে বানানো হচ্ছে ভূত, যাকে মারমারা বলে পোছোমা। রাতে সড়কে সড়কে নাচানো হবে এসব ভূত। ৭ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে শহরের বিভিন্ন সড়ক ও পাড়াতে টানা হবে রথ। রথ যাত্রা শেষে সাংগু নদীতে রথ বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে এই উৎসবের।
রবিবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসব বা মাহাঃ ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন উজানীপাড়া রাজগুরু মহা বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ ড. সুবন্নলাংকারা মহাথেরো ও বিহারের ভিক্ষু সংঘরা। পরে রাজার মাঠে মারমা নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
এবার ওয়াগ্যে পোয়ের ৩দিন ব্যার্পী কর্মসূচীতে রয়েছে ধর্মীয় গুরুদের ছোয়াইং দান (ভান্তেদের ভাল খাবার দেয়া), সমবেত প্রার্থনা, ফানুষ উড়ানো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পিঠা তৈরী, মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জলন, রথ যাত্রা এবং সাংঙ্গু নদীতে রথ বিসর্জন।
উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি চ নু মং মার্মা বলেন,সোমবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পুরাতন রাজবাড়ী প্রাঙ্গন থেকে বিহারে পূজার উদ্দেশ্য মঙ্গল রথযাত্রা, সন্ধ্যা ৬টায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও চুড়ামণি জাদির উদ্দেশ্যে রং বেরং এর ফানুস উত্তোলন ও সন্ধ্যা ৭টায় বিভিন্ন পাড়ায় পাড়ায় পিঠা তৈরী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে এবং মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৩টায় পুরাতন রাজবাড়ী প্রাঙ্গন থেকে দায়ক-দায়িকা ও সর্বসাধারনের পূজার উদ্দেশ্যে মঙ্গল রথযাত্রা বের হয়ে শহর ও পাড়া প্রদক্ষিণ শেষে সাঙ্গু নদীর উজানীপাড়া খেয়াঘাটে মঙ্গল রথ উৎসর্গ করে এই তিনদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তি হবে।
এদিকে প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসব বা মাহাঃ ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ উৎসবকে কেন্দ্র করে বান্দরবানের ৭টি উপজেলায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যাবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার মোঃ শহিদুল্লাহ কাওছার। তিনি আরো জানান, পুরো বান্দরবান পার্বত্য জেলা নিরাপত্তার চাদরে ডাকা থাকবে এবং পোশাকের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য নিয়োজিত থাকবে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
