বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং-সিক তার কূটনৈতিক মেয়াদ শেষ হওয়ায় বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এক বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত পার্ক সুদানের আবিয়েই অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় নিহত ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন।
তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়ার প্রতি শুভকামনা জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশটি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম হবে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশে কোরীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ), মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্প্রসারণের বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস রাষ্ট্রদূত পার্ককে তার সফল দায়িত্ব পালন শেষ করার জন্য অভিনন্দন জানান এবং দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে তার অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে অন্তর্বর্তী সরকার একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (কেইপিজেড) সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের একটি জটিলতা নিরসনের কথা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এর ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে।
এর জবাবে রাষ্ট্রদূত পার্ক জানান, দক্ষিণ কোরিয়ার ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট স্যামসাং বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণে আগ্রহ দেখিয়েছে। এর মধ্যে দেশে মোবাইল ফোন উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) নিয়ে নতুন দফার আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশি পণ্য, বিশেষ করে তৈরি পোশাক, দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ পাবে।
রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় আমদানি করা পোশাকের পাঁচ শতাংশেরও কম বাংলাদেশ থেকে আসে, যেখানে ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া বাজারের বড় অংশ দখল করে রেখেছে। এই দুটি দেশ দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় কোরিয়ার বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে।
দুই দেশের গভীর সাংস্কৃতিক ও জনগণের মধ্যে সম্পর্কের কথা স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টা দক্ষিণ কোরিয়াকে বাংলাদেশে আরও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বিশেষ করে ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের আহ্বান জানান, যাতে বাংলাদেশি তরুণদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে।
বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদও উপস্থিত ছিলেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
