খুলনায় ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তারের পর রহস্যজনকভাবে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খুলনা সদর থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নগরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন খুলনা জেলা পরিষদের নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর এমডি আসলাম হোসেন। জানা গেছে, বুধবার বিকেলে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের কেসিসি মার্কেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে খুলনা সদর থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এমডি আসলাম হোসেন খুলনা সদর থানার নন-এফআইআর প্রসিকিউশন মামলা নং–৩৫৬/২৫ (তারিখ: ০৮/১২/২৫), দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারায় জারি হওয়া ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গ্রেপ্তারের পর তাকে থানায় নেওয়া হলেও কিছু সময়ের মধ্যেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বিশেষ করে, আদালতে সোপর্দ না করে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে নগরজুড়ে।
নগরবাসীর একটি অংশ জানান, খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এমনিতেই পুলিশের ওপর মানুষের আস্থা অনেকটাই কমে গেছে। এই ঘটনা সেই অবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, “ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এমডি আসলাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে গ্রেপ্তারের পর তিনি গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কথা জানান। তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে তাকে খুলনা জেলা পরিষদের একজনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।”
তবে পুলিশের এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন আইনজ্ঞ ও সচেতন মহল। তাদের প্রশ্ন, ওয়ারেন্টভুক্ত কোনো আসামি অসুস্থ হলে তাকে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। কোনো ব্যক্তির জিম্মায় ছেড়ে দেওয়ার আইনগত ভিত্তি কী?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইনজীবী বলেন, “ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা বাধ্যতামূলক। অসুস্থতার অজুহাতে তাকে ছেড়ে দেওয়া আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। অভিযোগ সত্য হলে এটি গুরুতর শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল।”
এদিকে সচেতন মহলের দাবি, খুলনা জেলা পরিষদে সংঘটিত নানা দুর্নীতির সঙ্গে এমডি আসলাম হোসেনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এমন একজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা দুর্নীতিবাজদের আরও উৎসাহিত করবে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, যদি অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে আসামিকে ছেড়ে দেওয়া হয়ে থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর জনগণের আস্থা আরও ক্ষুণ্ন হবে।
এ বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, “ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাহলে এই ঘটনা কীভাবে ঘটলো—সে প্রশ্ন সবার।”

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
