ঢাকা, ৯ আগস্ট ২০২৬, রবিবার, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
banglahour গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল

English

গুমের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তদন্ত কমিশন

জাতীয় | তাহিরুল ইসলাম,বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা ।

(৭ মাস আগে) ৪ জানুয়ারি ২০২৬, রবিবার, ৮:১০ অপরাহ্ন

banglahour

বাংলাদেশে সংঘটিত বলপূর্বক গুমের ঘটনাগুলোর পেছনে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল—এমন তথ্য উঠে এসেছে গুম সংক্রান্ত কমিশন অফ ইনকোয়ারির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে। আজ রোববার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেয় কমিশন।

প্রতিবেদন হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, নূর খান লিটন, নাবিলা ইদ্রিস ও সাজ্জাদ হোসেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া।

কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ১,৯১৩টি গুমের অভিযোগ তদন্ত কমিশনে জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে এর মধ্যে ১,৫৬৯টি অভিযোগ সংজ্ঞা অনুযায়ী গুম হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৮৭টি অভিযোগ ‘মিসিং অ্যান্ড ডেড’ ক্যাটাগরিতে পড়েছে।

কমিশন সদস্য নাবিলা ইদ্রিস জানান, এখনো অনেক ভুক্তভোগী বা তাদের পরিবার অভিযোগ নিয়ে আসছেন। তাঁর মতে, দেশে গুমের প্রকৃত সংখ্যা চার থেকে ছয় হাজার পর্যন্ত হতে পারে। অনেক ভুক্তভোগী বিদেশে চলে যাওয়া, কমিশনের কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত না থাকা কিংবা নিরাপত্তাজনিত কারণে অনরেকর্ড কথা বলতে না চাওয়ার বিষয়টিও উঠে এসেছে তদন্তে।

কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাপ্ত তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে গুমগুলো ছিল রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধ। জীবিত ফিরে আসা ভুক্তভোগীদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের এবং ২২ শতাংশ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। অন্যদিকে এখনো নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের এবং ২২ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী।

হাই প্রোফাইল গুমের ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন—এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানায় কমিশন। এসব ঘটনার মধ্যে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, চৌধুরী আলম, জামায়াত নেতা সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী, ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামানের নাম উল্লেখ করা হয়।

কমিশনের সদস্যরা জানান, একাধিক গুমের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সরাসরি নির্দেশদাতা ছিলেন। পাশাপাশি গুমের শিকার ব্যক্তিদের ভারতের কাছে রেন্ডিশনের প্রমাণ পাওয়ায় বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশেই সংঘটিত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস কমিশনের সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবলের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “এটি একটি ঐতিহাসিক দলিল। গণতন্ত্রের আড়ালে কীভাবে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করে মানুষের ওপর নৃশংসতা চালানো হয়েছে—এই প্রতিবেদন তার প্রামাণ্য দলিল।”

তিনি আরও বলেন, এসব ঘটনা যেন ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সে জন্য প্রতিকারের পথ খুঁজে বের করা জরুরি। প্রতিবেদনগুলো সহজ ভাষায় জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি কমিশনকে সুপারিশমালা ও ভবিষ্যৎ করণীয় উপস্থাপনের নির্দেশ দেন তিনি।

এছাড়া আয়নাঘরের পাশাপাশি যেসব স্থানে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের ঘটনা ঘটেছে সেসব স্থান ম্যাপিং করার নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বরিশালের বলেশ্বর নদী, বুড়িগঙ্গা নদী এবং মুন্সিগঞ্জ এলাকায় লাশ গুমের একাধিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

কমিশন সদস্যরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

জাতীয় থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

banglahour
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮০১৬৭৪০৬২০২৩
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯