সীমানা পুনর্র্নিধারণ সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় পাবনা-১ ও পাবনা-২ সংসদীয় আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম 'আপাতত' স্থগিত ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একটি রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে এই দুটি আসনে ভোট গ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলো।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জানুয়ারি আপিল বিভাগ সীমানা পুনর্র্নিধারণ সংক্রান্ত একটি মামলার রায় প্রদান করেন। ওই রায়ের সার্টিফাইড কপি বা অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর কমিশনের আইন শাখা এটি পর্যালোচনা করে। আজ শুক্রবার কমিশনের এক জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, আদালতের নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই দুটি আসনের নির্বাচনী প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রাখা হবে।
ইসি সচিবালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, "আমরা ৫ জানুয়ারির রায়ের অনুলিপি হাতে পেয়েছি। সেখানে সীমানা সংক্রান্ত কিছু কারিগরি ও আইনি পর্যবেক্ষণ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী কোনো সুনির্দিষ্ট আদেশ না আসা পর্যন্ত এই দুই আসনে ভোট গ্রহণের যাবতীয় প্রস্তুতি বন্ধ থাকবে।"
নির্বাচন কমিশনের সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্র্নিধারণের গেজেটকে চ্যালেঞ্জ করে স্থানীয় পর্যায়ে একটি রিট আবেদন করা হয়েছিল। মামলাটি পরবর্তীকালে আপিল বিভাগ পর্যন্ত গড়ায়। মূলত প্রশাসনিক এলাকা বিন্যাস এবং ভোটারদের ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে সীমানা পরিবর্তনের যে সিদ্ধান্ত কমিশন নিয়েছিল, তা নিয়ে উচ্চ আদালত এই স্থগিতাদেশ বা রায়ের পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।
হঠাৎ করে নির্বাচন স্থগিতের খবরে পাবনা-১ (সাঁথিয়া ও বেড়ার আংশিক) এবং পাবনা-২ (সুজানগর ও বেড়ার আংশিক) আসনের প্রার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই এরই মধ্যে প্রচার-প্রচারণা এবং মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া পার করেছেন। এই স্থগিতাদেশের ফলে তাদের নির্বাচনী ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বড় ধরনের ধাক্কা খেল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিষয়টি এখন পুরোপুরি আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।কমিশন যদি মনে করে তবে তারা এই আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ বা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে। পাবনার এই দুটি আসন বাদে দেশের বাকি ২৯৮টি আসনে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন প্রক্রিয়া যথারীতি চলবে।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে পাবনার এই দুই আসনের ভোটারদের আরও কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে এটা জানার জন্য যে, তারা ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট দিতে পারছেন কি না।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
