টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা প্রশাসনের অফিস সহকারী মোহাম্মদ বায়জিদের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, সরকারি সুবিধা আত্মসাৎ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আবেদন গ্রহণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি সেবা পেতে হলে নির্ধারিত অঙ্কের ঘুষ দিতে হয়, অন্যথায় কাজ আটকে রাখা হয়।
ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ বায়জিদ ২০১২ সালে অফিস সহায়ক পদে চাকরিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক (নাজির) পদে পদোন্নতি পান। পদোন্নতির পর থেকেই তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ বাড়তে থাকে বলে দাবি স্থানীয়দের।
অভিযোগ অনুযায়ী, সাধারণ মানুষ সেবা নিতে এলে আবেদন জমা দেওয়ার সময়ই টাকা দাবি করা হয়। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফাইল আটকে রাখা কিংবা এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘুরিয়ে হয়রানি করা হয়। এতে সরকারি সেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সেবাপ্রার্থীরা।
এছাড়া সরকারের ন্যায্যমূল্যের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি টিসিবির ডিলারদের কাছ থেকেও নিয়মিত মাসিক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। একাধিক ডিলারের দাবি, টিসিবি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রমে অংশ নিতে বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক রাখতে নির্ধারিত টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যায় না।
আরও অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিজের অথবা পরিবারের সদস্যদের নামে নিয়ে সুবিধা ভোগ করেছেন তিনি। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০১৩–১৪ অর্থবছরে তার পিতা আবু আবুবকর সিদ্দিকীর নামে পৌর শহরের কাগমারী শিয়ালকোল মৌজার দাগ নম্বর ৪৯৫-এ ৪ শতাংশ জমি নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত অফিস সহকারী মোহাম্মদ বায়জিদ ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দকৃত জমি নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও ঘুষ ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান বলেন, অভিযোগ পেলে তা তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
