বাগেরহাটে জানাজা শেষে মা ও তার ৯ মাস বয়সী শিশুসন্তানকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত নারীর স্বামী নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের পরিবার নিরাপত্তা শঙ্কার কথা বিবেচনায় রেখে প্যারোলে মুক্তির জন্য কোনো আবেদন করেনি বলে জানা গেছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী (২২) ও তার শিশু সন্তান নাজিমের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় স্বজনরা একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ নিয়ে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে পৌঁছান। প্যারোলের আবেদন না করেই তারা মরদেহ নিয়ে কারাগারে হাজির হন। বিষয়টি জানতে পেরে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী ও জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন সার্বিক সহযোগিতা করেন। তাদের উদ্যোগে যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান ও যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. আসিফ উদ্দিন মানবিক বিবেচনায় কারাগারের ভেতরে মরদেহ দেখার ব্যবস্থা করেন।
কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে ছয়জন নিকট আত্মীয়সহ মরদেহ কারাগারের ভেতরে নেওয়া হয়। এ সময় প্রায় পাঁচ মিনিটের জন্য স্ত্রী ও সন্তানকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান বন্দি জুয়েল হাসান সাদ্দাম। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী।
সাদ্দামের শ্বশুর ও জাতীয় পার্টি নেতা মো. রুহুল আমিন জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে মরদেহ নিয়ে তারা কারাগারে পৌঁছান। দুটি মাইক্রোবাসে ১২ থেকে ১৫ জন আত্মীয়স্বজন ছিলেন। সময় স্বল্পতার কারণে নিয়ম অনুযায়ী প্যারোলের আবেদন করা সম্ভব হয়নি। তবে মানবিক কারণে কারা কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় তার ৯ মাস বয়সী শিশু সন্তান নাজিমের মরদেহ। পুলিশ ও পরিবারের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, মানসিক হতাশা থেকে তিনি প্রথমে সন্তানকে হত্যা করে পরে আত্মহত্যা করেন।
পুলিশ জানায়, সুবর্ণা স্বর্ণালীকে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং শিশুটির মরদেহ ঘরের মেঝে থেকে উদ্ধার করা হয়।
নিহত সুবর্ণার বাবা মো. রুহুল আমিন জানান, তার মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। এ কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি ধারণা করছেন।
উল্লেখ্য, এর আগে সুবর্ণা আদালতের মাধ্যমে টুঙ্গিপাড়া থানায় স্বামী জুয়েল হাসান সাদ্দামের বিরুদ্ধে একটি যৌতুক মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় সাদ্দামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে। বর্তমানে তিনি একাধিক মামলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি।
যশোর জেলা প্রশাসকের মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশীষ কুমার দাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, বন্দি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো আবেদন করা হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্যারোল সংক্রান্ত যে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন। পরিবারের মৌখিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেবল মানবিক বিবেচনায় কারাগারের ফটকে মরদেহ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়।
যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানও জানান, সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে তার কাছে কোনো আবেদন আসেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাদ্দাম গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন। পরিবারের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অতীতে নির্যাতনের অভিযোগে ক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা তাকে আঘাত করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই পরিবার প্যারোলে মুক্তির ঝুঁকি নিতে চায়নি।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
