আসন্ন জাতীয় সংসদের অধিবেশনেই তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ আইন হিসেবে পাস করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
সোমবার (৯ মার্চ) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা সেমিনার কক্ষে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) ও অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) আয়োজিত “জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ: সরকারের সাফল্য, প্রতিশ্রুতি ও জনপ্রত্যাশা” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে আসন্ন সংসদ অধিবেশনেই তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ আইন হিসেবে পাস করা হবে। আইনটি বাস্তবায়নেও তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহার উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ, অর্থাৎ প্রায় ৩৫ শতাংশ তামাক ব্যবহার করেন। তামাকজনিত কারণে প্রতিদিন গড়ে ৫৪৮ জনের মৃত্যু হয় এবং বছরে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই হৃদরোগ, ক্যানসারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে ঘটে, যার অন্যতম প্রধান কারণ তামাক ব্যবহার। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ সংসদের প্রথম অধিবেশনে আইন হিসেবে পাস করা হলে তামাকজনিত রোগ ও স্বাস্থ্য ব্যয় কমবে।
দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার বলেন, “তামাক নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী আইনের বিকল্প নেই। জনপ্রত্যাশা পূরণে অধ্যাদেশটি দ্রুত আইন হিসেবে পাস করা প্রয়োজন।”
চ্যানেল ২৪-এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম বলেন, “তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, যা অব্যাহত রাখা জরুরি।
অনলাইন সংবাদমাধ্যম চরচা’র সম্পাদক সোহরাব হাসান বলেন, “জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অধ্যাদেশটি হুবহু আইন হিসেবে পাস করা উচিত।”
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক তামাকজনিত ক্যান্সারে আক্রান্ত ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমরা এই অসহায় মানুষদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরলাম। সরকারের কাছে প্রত্যাশা—এই আর্তনাদ যেন আর শুনতে না হয়।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আত্মা’র কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন, প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরসহ বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। আত্মা’র কো-কনভেনর নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রজ্ঞা’র তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক প্রকল্প প্রধান হাসান শাহরিয়ার।
উল্লেখ্য, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ই-সিগারেট, ভ্যাপ ও হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টের উৎপাদন, আমদানি, বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া সকল পাবলিক প্লেস ও পরিবহনকে শতভাগ ধূমপানমুক্ত করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও খেলার মাঠের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ করা এবং তামাকপণ্যের বিজ্ঞাপন, প্রচার ও পৃষ্ঠপোষকতার ওপর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব রয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
