পরিত্যক্ত ভবনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কয়েক লাখ টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এবং একটি অব্যবহৃত টয়লেটে স্যালাইন, সিরিঞ্জ ও বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম পড়ে থাকতে দেখেন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন।
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে সড়কপথে হাসপাতালটিতে পৌঁছান মন্ত্রী। এ সময় বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার তাঁর সঙ্গে ছিলেন। পরিদর্শনের সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং রোগী ও তাদের স্বজনদের কাছে চিকিৎসাসেবার খোঁজখবর নেন। এ সময় একটি পরিত্যক্ত ভবনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কয়েক লাখ টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এবং একটি অব্যবহৃত টয়লেটে স্যালাইন, সিরিঞ্জ ও বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।
তদন্তকালে জানা যায়, হাসপাতালের পাশেই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) কামাল হোসেন মুফতির একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন ক্লিনিক রয়েছে, যার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে মন্ত্রী ওই কর্মকর্তাকে ভর্ৎসনা করেন। এছাড়া চিকিৎসকদের বায়োমেট্রিক হাজিরা যাচাই করে কয়েকজনের নিয়মিত দেরিতে আসার বিষয়টিও তাঁর নজরে আসে।
এ সময় বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুল আলমকে ফোন করা হলে তিনি ছুটিতে আছেন বলে জানান। কার অনুমতিতে ছুটি নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের মৌখিক অনুমতির কথা বলেন। পরবর্তীতে বিভাগীয় পরিচালক শেখ মো. মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিভিল সার্জনের ছুটির বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। এরপর মন্ত্রী বিভাগীয় পরিচালককে মোরেলগঞ্জ হাসপাতাল পরিদর্শন করে অনিয়মের দায় কার তা নির্ধারণের নির্দেশ দেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও দরিদ্র মানুষের যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে এবং ৫০ শয্যার এই হাসপাতালটিকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করতে খুব শীঘ্রই দরপত্র আহ্বান করা হবে। তিনি আরও বলেন, যেখানেই অনিয়ম মিলছে সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঢাকায় ফিরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং দ্রুতই হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার এবং মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ।
মোরেলগঞ্জ পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও পরিদর্শন করেন। সেখানে সার্বিক চিকিৎসাসেবায় সন্তোষ প্রকাশ করার পাশাপাশি ওই এলাকার চিকিৎসক ও জনবল সংকট দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
