বরিশালের হিজলা উপজেলায় সাংবাদিক ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে রোকনুজ্জামান খান উজ্জ্বল নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের নরসিংহপুর গ্রামের মৃত মন্নান খানের ছেলে রোকনুজ্জামান খান উজ্জ্বল। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের প্রায় দুই মাস আগে সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, উজ্জ্বলের পরিবার এলাকায় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত। তার বাবা মৃত আব্দুল মান্নান খান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তার মা সালমা বেগম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি। ছোট ভাই আসাদুজ্জামান খান সজল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এবং বড় ভাই সাইদুর রহমান রিপন খান ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।
অভিযোগ রয়েছে, সরকার পরিবর্তনের পর তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চাঁদাবাজি, ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, বিভিন্ন ঘটনায় জোরপূর্বক সালিশ করা এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের হয়রানিসহ নানা কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। এছাড়া সম্প্রতি কাউরিয়া বাজার থেকে হরিনাথপুর বাজারে যাওয়ার পথে একটি পুকুরের প্রায় ৫০টি পাইলিং খুঁটি জোরপূর্বক তুলে নিয়ে নিজের পুকুরে ব্যবহার করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে তার বড় ভাই সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য কামরুজ্জামান খান সঞ্চল বলেন, “আমাদের পরিবারের আট সন্তানের মধ্যে উজ্জ্বল সবার অবাধ্য। পরিবারের কেউ তার কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না।
হিজলা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান খান সজল বলেন, “আমাদের পরিবারে কোনো সন্ত্রাসী বা চাঁদাবাজ নেই। রোকনুজ্জামান খান উজ্জ্বল যা করেন, তা তার ব্যক্তিগত বিষয়। পরিবারের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১২ তারিখ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর অনেকেই ভয়ে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
