ফরিদপুরে বিএনপি নেতা পরিচয়ে ডিস ও ইন্টারনেট ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জেরে গণপিটুনির শিকার হওয়ার পর উল্টো এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্য ও তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
অভিযোগের তীর ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বিজয় হাসান বাবুল ও তাঁর ছোট ভাই মো. আক্তার হোসেনের দিকে। তাঁরা দ্বিরাজতুল্লাহ মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা।
রোববার (২৯ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দ্বিরাজতুল্লাহ মাতুব্বরের ডাঙ্গীসহ আশপাশের চারটি গ্রামে প্রায় ১০ বছর ধরে ডিস ও ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে আসছেন আসলাম শেখ নামে এক ব্যবসায়ী। তবে দুই বছর আগে একই এলাকায় ব্যবসা শুরু করেন আক্তার হোসেন। এরপর থেকে প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য আক্তার হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা প্রায়ই প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসায়ীর লাইন কেটে দিতেন এবং গ্রাহকদের ভয়ভীতি দেখাতেন। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
গত ১৯ মার্চ রাত ১০টার দিকে রুস্তুম শেখের বাড়িতে কেবল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে আক্তার হোসেনসহ তিনজন একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের তার কেটে ফেলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে বিদ্যুতের তারটি টিনের চালার ওপর পড়ে আশপাশের কয়েকটি ঘর বিদ্যুতায়িত হয়ে যায়। এ ঘটনায় অন্তত ৭ জন আহত হন।
স্থানীয়দের চিৎকারে লোকজন জড়ো হয়ে আক্তার হোসেনকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য দুইজন পালিয়ে যায়। বর্তমানে আক্তার হোসেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এদিকে, ঘটনার ছয় দিন পর ২৫ মার্চ আক্তার হোসেনের স্ত্রী সাদিয়া আক্তার ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে ফরিদপুরের জ্যেষ্ঠ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে সৌদি প্রবাসী সামসুল মোল্যা রয়েছেন, যিনি ২২ বছর ধরে প্রবাসে আছেন এবং সম্প্রতি ছুটিতে দেশে এসেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে গণপিটুনি দিয়েছে। অথচ আমাকে চাঁদাবাজির মামলায় আসামি করা হয়েছে। এতে আমার বিদেশে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
একই মামলার আসামি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নিজাম উদ্দীন বলেন, “কোনো চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি। এটি সম্পূর্ণ হয়রানিমূলক মামলা।
তবে ইউপি সদস্য বিজয় হাসান বাবুল দাবি করেন, “আসলাম শেখ আমাদের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে আক্তারকে মারধর করা হয়েছে। সেদিন লাইন কাটার ঘটনা ঘটেনি।
কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূর হোসেন বলেন, “ডিস ও ইন্টারনেটের লাইন নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি বাড়িতে বিদ্যুতায়িত হওয়ার বিষয়টি শুনেছি। চাঁদাবাজির মামলার বিষয়ে বিস্তারিত জানা নেই।”

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
