কিশোরগঞ্জের ভৈরবে উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। গত জুলাই থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে পাঁচ শতাধিক ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। ইতোমধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে ভৈরবকে জেলার অন্যতম ডেঙ্গু ‘হটস্পট’ হিসেবে বিবেচনা করছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুলাই থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২২৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ভর্তি ছিলেন ১২২ জন এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৩ দিনেই ভর্তি হয়েছেন ৮৬ জন। এছাড়া একই সময়ে বহির্বিভাগে আরও তিন শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালেও দুই শতাধিক ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ২৯ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৫ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং ৪ জন শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ১০ জন পুরুষ, ৭ জন নারী ও ৩ জন শিশু।
হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে জিদনী ও সৈয়দবানু নামে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি কয়েকজন রোগী জানান, কয়েকদিন ধরে জ্বর ও শরীরব্যথা নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করালে তাদের ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এরপর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন তারা।
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আ. করিম বলেন, “বর্তমানে ভৈরবে ডেঙ্গুর প্রকোপ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরীক্ষার জন্য আসা প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২০ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং কোথাও যেন বৃষ্টির পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। তাই পানি জমতে না দেওয়া, ভোর ও সন্ধ্যায় মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকা এবং শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
