জীবন সংগ্রামে বড় স্বপ্নের জন্য, স্বল্প খাবার ও ছোট্ট রাবারের নৌকায় অনিশ্চিত যাত্রা। গভীর সাগরে অনাহারে ২২ সহযাত্রীর মৃত্যু, এই মানসিক যন্ত্রণায় মুমূর্ষু আবদুল কাদির এখন ’স্বপ্নের গ্রীস’ উপকূলের এক আশ্রয় কেন্দ্রে।
বলছি, লিবিয়া থেকে সাগর পথে ইউরোপ যাওয়ার পথে বাংলাদেশীসহ ২২জন নিহতের ঘটনায় প্রাণে বেঁচে গ্রীস উপকূলের এক আশ্রয় ক্যাম্পে থাকা আবদুল কাদিরের কথা।
তিনি, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার দেওঘর ইউনিয়নের পশ্চিম সাভিয়ানগর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুই বছর আগে ইটালিতে যান বড় আকাইদ। সেই থেকে ইটালি যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন কাদির। অষ্টগ্রাম উপজেলার খয়েরপুর- আব্দুল্লাপুর ইউনিয়নের আব্দুল্লাপুর গ্রামের ইটালি প্রবাসী তুষারের মাধ্যমে ইউরোপ যাওয়ার চুক্তি করে দেন বড় ভাই আকাইদ।
তাই, ২০২৫সালের ২০অক্টোবর দুবাই হয়ে আকাশ পথে লিবিয়ায় পাড়ি জমান কাদির। তার পর থেকে চলে স্বপ্নের দেশে যাওয়ার প্রস্তুতি। ২২লাখ টাকার চুক্তিতে ইটালি যেতে ইতিমধ্যে ১২লাখ টাকা পরিশোধ করেছে কাদিরের পরিবার। গন্তব্যে পৌঁছলে পরিশোধ করতে হবে অবশিষ্ট টাকা।
আবদুল কাদিরের মা আম্বিয়া খাতুন মুঠোফোনে বলেন, ঈদের ১৪দিন আগে আমার ছেলেকে লিবিয়ার কোন এক মরুভূমিতে রাখে দালাল তুষার। তার আগেই কাদিরের ফোন কেরে নেওয়া হয়। মাঝে মধ্যে অন্যের ফোনে ১-২মিনিট কথা হতো। ঈদের পর শনিবার দিন রাতে হাওয়াই (রাবার) নৌকা দিয়ে গ্রীসের উদ্দেশ্য রওনা করে তারা।
টেলিভিশনে এই মৃত্যুর খবর শুনে আমার জ্বান (প্রাণ) ছটপট করতেছে দুই দিন ধরে। আজ আমার কাদির ফোন করছে, সে দুর্বল, না-খাইতে না-খাইতে আমার পুঁত (ছেলে) মরণ দেইখা ফিরছে। তার সাথে মানুষ খাউনের অভাবে মরছে। এই কথা বলে আর আমার পুঁতে কান্দে।
তিনি আরও বলে, বাড়ির পাশের আরও একজন ও ভৈরবের এক ছেলে কাদিরের সাথে লিবিয়ায় থাকতো তাদেরকে গেইমে নেয়নাই।
এই বিষয়ে দেওঘর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আক্তার হোসেন বলেন, আজ খবর পেয়ে সকালে কাদিরের বাড়িতে গিয়েছি। শুনেছি, আব্দুল্লাপুরের দালাল ইটালি প্রবাসী তুষারের মাধ্যমে কাদিরসহ দুইজন বিদেশ যান। কাদির এখন গ্রীস পুলিশের হেফাজতে আছে। বেঁচে আছেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
