কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌর এলাকায় মশার উপদ্রব দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও কার্যকর মশা নিধন কার্যক্রম চোখে না পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। নিয়মিত পৌর কর পরিশোধ করেও প্রত্যাশিত নাগরিক সেবা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।
পৌর এলাকার চরিয়াকোনা নিবাসী কাশেস মিয়া বলেন, “আমরা নিয়মিত ট্যাক্স দিই, তার ওপর সরকারি বরাদ্দও আসে। কিন্তু বরাদ্দের টাকা কোথায় এবং কীভাবে খরচ হয় আমরা জানি না। নাগরিক সুবিধাও ঠিকমতো পাই না। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মশা নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধনের কথা দেখেছি, কিন্তু বাস্তবে কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ে না। দ্রুত কার্যক্রম চালুর দাবি জানাই।”
একই অভিযোগ করেন পশ্চিমপাড়া মহল্লার বাসিন্দা মোস্তাকুর রহমান গোলাপ। তিনি বলেন, “আমাদের এলাকায় মশার উপদ্রব বেশি। গত ১০-১২ বছরে উল্লেখযোগ্য কোনো মশা নিধন কার্যক্রম দেখিনি। নিয়ম মেনে পৌর কর দিলেও সেবা পাচ্ছি না।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকারী জানান, অতীতে বরাদ্দকৃত ওষুধের পুরোটা ব্যবহার না করে সীমিত পরিমাণে কাজ শেষ করার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ফগার মেশিনে ওষুধের পরিবর্তে অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করে লোকদেখানো কার্যক্রম চালানো হয় বলেও অভিযোগ ওঠে।
তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, পৌর প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া বরাদ্দের পরিমাণ জানানো সম্ভব নয়। কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, অন্তত আরও এক মাস সময় লাগতে পারে।
অন্যদিকে কটিয়াদী পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা বলেন, “মশার উপদ্রব বিবেচনায় পৌর বাজেট থেকে জরুরি ভিত্তিতে বরাদ্দ দিয়ে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করা হবে। বাজেট সংক্রান্ত কোনো তথ্য গোপন করা হবে না এবং স্থানীয় সরকার থেকে পাওয়া অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এবং কার্যকর মশা নিধন কার্যক্রম চালু করে জনদুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি পৌরসভার সেবার মানও উন্নত করা হোক।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
