ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সোমবার, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
banglahour গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল

English

অষ্টগ্রামে ১৯১ বছরের ঐতিহ্যবাহী 'নিশান গাস্ত' অনুষ্ঠিত

সারাদেশ | মো ফরিদ রায়হান (হাওরাঞ্চল) কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি।

(২ মাস আগে) ২৫ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৪:২৮ অপরাহ্ন

banglahour


কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) র দৌহিত্রের শাহাদাৎ ও ইসলামের পূর্ণজাগরণ দিবস বা পবিত্র আশুরা পালনে অষ্টগ্রাম কেন্দ্রীয় ইমামবাড়া 'নিশান গাস্তে' (প্রদক্ষিণ) হাজারো মানুষ সমবেত হয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে 'ইয়া হোসেন (রা:) ইয়া হাসান (রা:)' ধ্বনিতে শোকাবহ ছোট-বড় শোক মিছিল উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন থেকে সমবেত হয় অষ্টগ্রামে ঐতিহাসিক  হাবেলিতে।

পরে, ভাটির পীরখ্যাত আধ্যাতিক সাধক হযরত সৈয়দ আব্দুল করিম আল হোসাইনী (রঃ) ওরফে সৈয়দ আলাই মিয়া সাহেবের মাজার ও কেন্দ্রীয় ইমাম বাড়া প্রদক্ষিণ করা হয়। এখানে এবাদতের উদ্দেশ্যে নয় ইমাম হোসাইন আঃ এবং যে অলীর মাধ্যমে এই মহররমের আনুষ্ঠানিকতা শুরু উনাদের সঙ্গে রুহানি সম্পর্ক স্থাপনের নিয়তে এই গাস্তা বা চক্কর দেয়া হয় বলে হাবেলীর পক্ষ হতে জানানো হয়।

এজ ২৫ জুন ৯ মহররমে অষ্টগ্রামে ঐতিহ্যবাহী পবিত্র আশুরা পালনের চুরান্ত আনুষ্ঠানিকতা শুরু হল। কাল (২৬ জুন শুক্রবার) ১৯১ বছর ধরে চলা ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিলের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ১০দিন ব্যাপী মহররম পালনের কার্যক্রম।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার কাস্তুল, বাঙালপাড়া, পূর্ব অষ্টগ্রাম, সদর ও দেওঘর ইউনিয়ন থেকে হাজারো মানুষের একেকটি মিছিল ক্রমান্বয়ে হাজির হচ্ছে হাবলি প্রাঙ্গণে।

সবার মুখে হায় হোসেন , হায় হাসান  ধ্বনি, গলা ও মাথায় লাল-কালো কাপড়ে শোকচিন্হ নিয়ে শোক মাতমে নিশান গাস্ত  (চক্কর) ১দিচ্ছেন। হাবলির চারপাশে দাঁড়িয়ে মাতম করেছেন হাজারো নারী। এই শোকানুষ্ঠান দেখতে ভীড় করছে হাজার হাজার নারী পুরুষ ও শিশুরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হযরত সৈয়দ  আব্দুল করিম আল হোসাইনী (রঃ) ওরফে আলাই মিয়া, নবী দৌহিত্রের কারবলার মর্মান্তিক ঘটনা স্মরণে ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে 'পবিত্র আশুরা' পালন শুরু করেন। সেই থেকে বংশ পরম্পরায় 'অষ্টগ্রাম হাবেলি' এই শোকানুষ্ঠান পালন করে আসছে।

পবিত্র মহরম মাসের চাঁদ দেখার পর অষ্টগ্রাম হাবলি'র ইমামবাড়ায় শুরু হয়, লাল কালো নিশান উত্তোলন, নামাজ, জারি, মাতম মর্সিয়া, ১০টি রোজা, নিরামিষজাতী সাধরন মানের ভোজন, খালি'পা ও মাটিতে শয়ন (ঘুমানো), ফাতেহা, তাবারক বিতরণসহ নানা রকম অনুষ্ঠান। আর শেষ হয় ১০ই মহররম বাঁশ রঙ্গিন কাগজ ও কাপড়ে তৈরি কারবালার নিশানি "তাজিয়া" মিছিলের মাধ্যমে।

অষ্টগ্রাম উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের অর্ধশত ইমামবাড়া এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরব, হোসেনপুর, ভাগলপুর ও বৌলাই। নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুড়ি ও মদন। বি-বাড়িয়ার সরাইল, নাসিরনগর, সুনামগঞ্জ, সিলেট ও হবিগঞ্জের ঐতিহাসিক সুলতানশী হাবেলীসহ প্রায় ১০১গ্রামে  শতাধিক ইমামবাড়া'য় একই নিয়মে পালিত হয় এই ব্যাতিক্রমি শোকাবহ পবিত্র আশুরা।

এসময় অষ্টগ্রামে সমবেত হয় পার্শ্ববর্ত্তী বিভিন্ন জেলা উপজেলার হাজারো মানুষ। ১১ মহররম থেকে কারবলা (হাটখলা স্থানীয় কারবালা) এলাকায় শোকের আমেজে 'লোকজ উৎসব' চলে আরো দু'দিন।

নছিম মিয়া (৩৮) বলেন, মহানবী মোহাম্মদ (সাঃ) নাতিদের শোকে প্রতি বছর আমরা ১০ই মহরম পালন করি। এই দিনে কারবলার হৃদয় নাড়ানো ঘটনার মাধ্যমে ইসলামের পূর্নজাগরণ হয়েছিল। সেই মর্মান্তিক ঘটনা শোকাবহ পরিবেশে স্মরণ করি এবং এর মাধ্যমে আমরা মনের আকুতি প্রকাশ করি যে ৬১ হিজরিতে যদি আমরা থাকতাম তাহ হলে এই ভাবে সম্মিলিত ভাবে আমাদের যা কিছু আছে তা নিয়ে মিছিলসহ হোসাইনী কাফেলায় অংশ নিতাম ইয়াজিদ বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতাম।

এই বিষয়ে অষ্টগ্রাম হাবিলী'র সন্তান উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক  ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু বলেন, জালিমদের জুলুমের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন  ও নিপীড়িতের প্রতি শোক জানিয়ে  ১৯১ বছর ধরে এই আয়োজন চলে আসছে। হোসাইনি চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সত্যের প্রতি সম্মান ও মিথ্যার প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করে থাকি। শোকাবহ মহররম মানুষের মধ্যে ধৈর্য্য ত্যাগ ও ন্যায়ের পথে উদ্বুদ্ধ করে। শোকাবহ মহররমে সুন্নী মুসলীম উম্মার শান্তি ও সম্মৃদ্ধি কামনা করি সকল মনবের মধ্যে হোসাইনী চেতনা জাগ্রত হবে সেই প্রত্যাশা রাখি।

 

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

banglahour
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭৭৮০০৪৭০০
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
বিশেষ প্রতিনিধিঃ তাহিরুল ইসলাম