ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সোমবার, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
banglahour গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল

English

রাজারহাটে পুলিশের সামনেই ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে হামলা-লুটপাট ৬ দিন ধরে বাড়িছাড়া ১০টি পরিবার

সারাদেশ | রাশিদুল ইসলাম রাশেদ। কুড়িগ্রাম।

(২ মাস আগে) ১১ জুলাই ২০২৬, শনিবার, ১:৪৬ অপরাহ্ন

banglahour


কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নে পুলিশের উপস্থিতিতেই ১০টি বসতবাড়িতে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে এ হামলা চালায়। ঘটনার দুই দিন পর ৬২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হলেও ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে প্রাণনাশের আশঙ্কায় হামলার শিকার ১০টি পরিবারের সদস্যরা ৬দিন থেকে বাড়িছাড়া হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।


ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৫ জুলাই দুপুরে উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় ইউপি সদস্য খলিল মেম্বারের নেতৃত্বে কোরবান আলী, সেকেন্দার আলীসহ প্রায় দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় জড়ো হয়। হামলার আগে মাইকিং করে স্থানীয়দের ঘটনাস্থলে যেতে নিষেধ করা হয়। এরপর বাহাদুর আলীর বাড়িসহ অন্তত ১০টি বাড়িতে একযোগে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।


ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগ, পুরো ঘটনার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও হামলাকারীদের প্রতিহত করা কিংবা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো ভূমিকা নেয়নি। বরং হামলাকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে নির্বিঘ্নে তাণ্ডব চালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা প্রায় ২৬ লাখ টাকা নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, ফ্রিজ, টেলিভিশন, টিউবওয়েল, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পাশাপাশি বসতঘর ও ঘরের মালামাল ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করা হয়।


ভুক্তভোগী বাহাদুর আলী বলেন, "পুলিশ ঘটনাস্থলে ছিল, কিন্তু হামলাকারীদের কেউ বাধা দেয়নি। আমাদের চোখের সামনে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। প্রায় ২৬ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে। হামলার পর থেকেই আমরা পরিবার নিয়ে বাড়িছাড়া। প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছি। আমরা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।"

ঘটনার দুই দিন পর বাহাদুর আলী বাদী হয়ে রাজারহাট থানায় ৬২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর, প্রাণনাশের হুমকি এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতে প্রকাশ্য দিবালোকে দিনব্যাপী হামলা চললেও রহস্যজনক কারণে কাউকে আটক করা হয়নি। এতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


হামলার ছয় দিন পরও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ফিরতে পারেননি। তাদের অভিযোগ, প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

 নিরাপত্তাহীনতার কারণে নারী-শিশুসহ পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
তবে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মামুনুর রশীদ বলেন, "বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"


এ ঘটনায় এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন, পুলিশের উপস্থিতিতে এমন সংঘবদ্ধ হামলার পরও অভিযুক্তরা কীভাবে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেল। তদন্তের অগ্রগতি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

banglahour
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭৭৮০০৪৭০০
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
বিশেষ প্রতিনিধিঃ তাহিরুল ইসলাম