পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সব সম্প্রদায়ের মানুষের সাংবিধানিক অধিকার, জননিরাপত্তা ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের (পিসিএনপি) নতুন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে রাঙ্গামাটি পৌরসভা সংলগ্ন মৃধা ভবনের তৃতীয় তলায় স্থাপিত এই কার্যালয়ে ফিতা কেটে ও দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে নতুন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙ্গামাটি জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ইসলামিক সেন্টারের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট সমাজসেবক অ্যাডভোকেট মোক্তার আহমেদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙ্গামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াছ, পিসিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মো শাহজালাল রানা, হেফাজতে ইসলামের রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি মাওলানা শরিয়ত উল্লাহ, রাঙ্গামাটি আসবাবপত্র ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস শুক্কুর, পিসিএনপি রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, পিসিএনপি বান্দরবান জেলা সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম, পিসিএনপি রাঙ্গামাটি সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম, সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, পিসিএনপি খাগড়াছড়ি জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন কায়েস, সাধারণ সম্পাদক হাবীব আজম, যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফসার রনি এবং মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোরশেদা আক্তার, পিসিসিপি রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম তাজ, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, পিসিসিপি খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুমন আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, পিসিসিপি বান্দরবান জেলা সি:সহ- সভাপতি জমির উদ্দিন প্রমুখ।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে হেফাজতে ইসলাম রাঙ্গামাটি জেলার সাধারণ সম্পাদক ও কালেক্টরেট জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবুল হাশেমের পরিচালনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ পাহাড়ে বসবাসরত বাঙালিসহ সব সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা, সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণ এবং নাগরিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার দাবিতে কাজ করে যাচ্ছে। নতুন কেন্দ্রীয় কার্যালয় চালুর মাধ্যমে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
বক্তারা আরো বলেন, পাহাড়ে বসবাসকারী সব সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য সমান সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকার বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় পিসিএনপি ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি সশস্ত্র তৎপরতা, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার দাবিতে সংগঠনটি সোচ্চার থাকবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতির দাবির আড়ালে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বন্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়াও বক্তারা, পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০ এবং আঞ্চলিক প্রশাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। তারা দাবি করেন, এসব বিষয়ে জাতীয় স্বার্থ, সংবিধান, রাষ্ট্রের অখণ্ডতা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন বিবেচনায় আলোচনা প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০ একটি ঔপনিবেশিক আমলের আইন এবং স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের বাস্তবতার আলোকে এ আইন অগ্রহণযোগ্য, এ আইন সম্পূর্ণরূপে বাদ দিতে হবে। একই সঙ্গে তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক আলোচনার পরিবেশ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে নতুন কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে পার্বত্য চট্টগ্রামে পিসিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার একটি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নেতৃবৃন্দ।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
