টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে দ্রুত বাড়ছে পানি। হ্রদের পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাতেই কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট খুলে পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে হ্রদের অতিরিক্ত পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশনের পাশাপাশি নদী তীরবর্তী এলাকায় বাড়তে পারে পানির চাপ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান স্বাক্ষরিত জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছিলো।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার দুপুর দুইটায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল (মিনস সি লেভেল)। হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ এমএসএল। সাম্প্রতিক ভারি বৃষ্টিপাতে ক্যাচমেন্ট এলাকায় পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় হ্রদের পানি দ্রুত বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে শনিবার রাত দশটায় স্পিলওয়ের ১৬টি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে পানি নিষ্কাশন শুরু করা হতে পারে। প্রাথমিকভাবে এতে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন করা হবে। ফলে নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত মাসেও কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি গেট খুলে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন করা হয়েছিল। এবারও কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নতুন করে পানি ছাড়ার প্রস্তুতি গ্রহন করে কর্তৃপক্ষ। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রয়েছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে। স্পিলওয়ের গেট খোলা হলে কর্ণফুলী নদী হয়ে ভাটিতে পানির প্রবাহ আরও বাড়তে পারে। এ কারণে কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কাপ্তাই হ্রদের পানি নিয়ন্ত্রণে জলকপাট খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে জলকপাট খোলার পর কর্ণফুলী নদীর পানি ও তীরবর্তী এলাকার পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজর রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছে অভিজ্ঞমহল।
।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
