ঢাকার ধামরাইয়ের আমতা ইউনিয়নের বড় জেঠাইল এলাকায় বাড়ির ভেতর দিয়ে সড়ক নির্মাণের চেষ্টা এবং এতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক আইনজীবী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হয়রানি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাড়ির সীমানাপ্রাচীর, টিনের বেড়া, রান্নাঘর ও বাথরুম ভাঙচুরেরও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী আইনজীবী এস এম কামাল আহমেদ ওই এলাকার বাসিন্দা। তাঁর পরিবারের দাবি, ক্রয়সূত্রে ও পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমিতে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। সম্প্রতি স্থানীয় কয়েকজন বাড়ির দক্ষিণ পাশ দিয়ে পূর্ব-পশ্চিমে সড়ক নির্মাণের চেষ্টা করছেন। এতে বাধা দেওয়ার পর থেকেই তাঁদের হুমকি ও হয়রানি করা হচ্ছে।
গত ৪ জানুয়ারি ঢাকার আদালতে করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২ জানুয়ারি আইনজীবীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরদিন কয়েকজন লাঠিসোঁটা, লোহার রড, শাবল ও হাতুড়ি নিয়ে বাড়িতে ঢুকে দক্ষিণ পাশের প্রায় ১০০ ফুট পাকা দেয়াল, টিনের বেড়া, রান্নাঘর ও বাথরুম ভাঙচুর করেন। এতে প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন।
এ ছাড়া ৫ সেপ্টেম্বর ধামরাই থানায় করা জিডিতে বাড়ির অবশিষ্ট দেয়াল ভেঙে প্রায় ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি এবং বাধা দিলে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করা হয়। জিডিতে হামিদ, শাকিল, ইমরান ও জসিমসহ কয়েকজনের নাম রয়েছে।
অন্যদিকে ২৯ সেপ্টেম্বর ইউপি চেয়ারম্যানের উদ্যোগে জমি মাপার সময় আইনজীবীর পক্ষের সার্ভেয়ারকে মাপ দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরিবারের দাবি, পর্চা অনুযায়ী বাড়ির বাইরেও তাঁদের অন্তত পাঁচ ফুট জমি রয়েছে, সেটিও দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে।
নথি অনুযায়ী, ১৯২০ সালের সিএস রেকর্ডের মালিকের ওয়ারিশদের কাছ থেকে মো. নুরুল হক ১০ শতাংশ জমি কেনেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা সেখানে বসবাস করেন। রেকর্ড সংশোধনের দাবিতে ২০২৩ সালের ২ এপ্রিল ঢাকার জেলা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা করা হয়।
এ ঘটনায় মো. হামিদুর রহমান, মো. মনিরুজ্জামান, মো. শাহজাহান, মো. ইমরান, শাকিল, স্বপন, জসিম, আবদুর রহিম, কালাম, সাদ্দাম, সৈয়দ আলী ও আবদুল গফুরসহ ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এস এম কামাল আহমেদ বলেন, জমির বিরোধ আদালতে বিচারাধীন থাকায় আইন নিজের হাতে না নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান করা উচিত। পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান তাঁরা।
ধামরাই থানার ওসি মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
