নিউইয়র্কের অভিবাসন আইনজীবী ফারহান আরিয়ান সতর্ক করে বলেছেন, অভিবাসন সংক্রান্ত কাগজপত্র বা আবেদন প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য অযোগ্য ব্যক্তি বা তথাকথিত “ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট”-এর ওপর নির্ভর করা অনেক অভিবাসীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি আইনি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন, বহু অভিবাসী দ্রুত ওয়ার্ক পারমিট বা বৈধ কাগজপত্রের আশায় বিপুল অর্থ ব্যয় করে এমন ব্যক্তিদের শরণাপন্ন হচ্ছেন, যারা আইনগতভাবে অভিবাসন পরামর্শ দেওয়ার অনুমোদনপ্রাপ্ত নন। এর ফলে ভুল তথ্য, অসত্য আবেদন কিংবা অসম্পূর্ণ নথিপত্র জমা পড়ছে, যা পরবর্তীতে আবেদনকারীর জন্য বড় ধরনের সমস্যার কারণ হচ্ছে।
ফারহান আরিয়ানের মতে, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিমালায় একাধিক পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে গ্রিন কার্ড আবেদনে ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির নতুন মানদণ্ড, প্রমাণপত্র যাচাইয়ের কঠোরতা এবং বিপুল সংখ্যক অনিষ্পন্ন মামলার কারণে সামান্য ভুলও গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি বলেন, নিউইয়র্কে ‘নোটারিও’, ‘ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট’ বা অনুরূপ পরিচয়ে কেউ আইনগত পরামর্শ দিতে পারেন না, যদি তিনি লাইসেন্সধারী আইনজীবী বা অনুমোদিত প্রতিনিধি না হন। নিউইয়র্কের আইন অনুযায়ী এ ধরনের বিভ্রান্তিকর পরিচয় ব্যবহার এবং মিথ্যা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
নিবন্ধে তিনি আরও উল্লেখ করেন, অভিবাসন আবেদনপত্রে ভুল বা মিথ্যা তথ্য থাকলে তার দায় শেষ পর্যন্ত আবেদনকারীকেই বহন করতে হয়। ভিসা, গ্রিন কার্ড কিংবা আশ্রয় আবেদন সংক্রান্ত ভুল তথ্য ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার পথও বন্ধ করে দিতে পারে।
অভিবাসীদের উদ্দেশে ফারহান আরিয়ানের পরামর্শ, কোনো আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করার আগে তা ভালোভাবে পড়ে বুঝে নিতে হবে, নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা শুনতে হবে এবং জমা দেওয়া সব নথির কপি সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি আইনজীবীর লাইসেন্স যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে অনুমোদিত অলাভজনক সংস্থার প্রতিনিধির সহায়তা নেওয়ার কথাও তিনি বলেন।
প্রতারণার শিকার হলে নিউইয়র্ক অ্যাটর্নি জেনারেলের অভিবাসন জালিয়াতি হটলাইন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থায় অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ফারহান আরিয়ান নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ফেডারেল আদালতে অনুমোদিত একজন আইনজীবী। তিনি জ্যাকসন হাইটসে অবস্থিত ল’ ফার্ম অব ফারহান আরিয়ান পি.সি.-তে অভিবাসন, ব্যক্তিগত ক্ষতিপূরণ ও রিয়েল এস্টেট আইন নিয়ে কাজ করেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
