ঢাকা, ২ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
banglahour গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল

English

নিউইয়র্কের অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য নতুন সতর্কবার্তা: একের পর এক নীতিগত পরিবর্তনে বাড়ছে অনিশ্চয়তা: ফারহান আরিয়ান পি.সি

মতামত | নিউইয়র্ক প্রতিনিধি।

(১ দিন আগে) ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, ১২:৫৭ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৩:৫১ অপরাহ্ন

banglahour

প্রতি সপ্তাহে জ্যাকসন হাইটসে আমার অফিসে কেউ না কেউ একটি প্রিন্টআউট, হোয়াটসঅ্যাপে আসা কোনো বার্তা কিংবা অনলাইনে দেখা কোনো ভিডিওর স্ক্রিনশট নিয়ে আসেন। প্রশ্নটি প্রায় সব সময় একই—“এই নতুন নিয়ম কি আমার ওপর প্রযোজ্য?”
বেশিরভাগ সময় সৎ উত্তরটি এক লাইনে দেওয়া যায় না। কারণ এ বছর অভিবাসন নীতি যেভাবে দ্রুত বদলেছে, আমার অভিজ্ঞতায় আগে কখনো এমন দেখিনি। কিছু পরিবর্তন ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে, কিছু আদালত স্থগিত করেছে, আবার কিছু এখনো প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। কোনটি কোন অবস্থায় আছে, তা জানার ওপর নির্ভর করছে একটি পরিবার এখনই আবেদন করবে, অপেক্ষা করবে, নাকি বিদেশ ভ্রমণ বাতিল করবে।
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে পরিস্থিতি সংক্ষেপে এমন:


নতুন গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য ‘পাবলিক চার্জ’ নিয়ম পরিবর্তন
আমাদের কমিউনিটির সবচেয়ে বেশি মানুষকে যে পরিবর্তনটি প্রভাবিত করবে, সেটি এ মাসেই কার্যকর হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ইউএসসিআইএস (USCIS) কর্মকর্তারা গ্রিন কার্ড আবেদন অনুমোদনের সময় আরও বেশি ধরনের সরকারি সুবিধা বিবেচনায় নিতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছে ফুড স্ট্যাম্প, মেডিকেইড এবং হাউজিং ভাউচার। নতুন নিয়মটি ২০২২ সালের তুলনামূলক সীমিত নীতির পরিবর্তে কার্যকর হয়েছে।
এখানে তারিখটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিবর্তন পূর্ববর্তী সময়ের জন্য প্রযোজ্য নয়। নতুন নীতি শুধু সেই সব অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস (I-485) আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেগুলো ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বা তার পরে ডাকযোগে পাঠানো বা ই-ফাইল করা হয়েছে।
যাদের গ্রিন কার্ড আবেদন ওই তারিখের আগে জমা পড়েছে, তাদের আবেদন আগের, তুলনামূলক অনুকূল ২০২২ সালের নীতিমালা অনুযায়ী বিবেচিত হবে। আর যারা আশ্রয় (Asylum) পাওয়ার ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের আবেদন করছেন, তারা এই নতুন নীতির আওতায় পড়বেন না।
একটি বিষয় আমি স্পষ্ট করতে চাই। ইতোমধ্যে অনেক পরিবারকে ভয় পেয়ে সরকারি সুবিধা বাতিল করতে দেখছি। পাবলিক চার্জ নীতির পরিবর্তন কোনো অভিবাসীর সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা পরিবর্তন করে না। আপনার মার্কিন নাগরিক সন্তান মেডিকেইড পেলে সেটি আর আপনি নিজে সুবিধা পাওয়ার বিষয় এক নয়। কোনো সুবিধা বন্ধ করার আগে অবশ্যই একজন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করুন। যে সুবিধা আপনি আইনত পাওয়ার যোগ্য, তা ত্যাগ করলে পরিবারের ক্ষতি হতে পারে, অথচ অভিবাসন আবেদনে তার কোনো লাভ নাও হতে পারে।


৭৫ দেশের ভিসা স্থগিতাদেশ আপাতত উঠে গেছে
এ বছরের শুরুতে স্টেট ডিপার্টমেন্ট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রদান সাময়িকভাবে বন্ধ করেছিল। এতে বহু স্বামী-স্ত্রী ও বাবা-মা বিদেশে আটকে পড়েন। ম্যানহাটনের এক ফেডারেল বিচারক ওই নীতি বাতিল করে দিয়েছেন। রায়ে বলা হয়েছে, এটি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে এবং অভিবাসী ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে জাতীয়তার ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধকারী অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।


রায়টি দেওয়া হয় ২১ আগস্ট ২০২৬। পরে স্টেট ডিপার্টমেন্ট নিশ্চিত করেছে যে স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই।
আপনার আত্মীয়ের কনস্যুলার মামলা যদি আটকে থাকে, তাহলে এখনই কনস্যুলেট বা ন্যাশনাল ভিসা সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সরকার আপিল করতে পারে, তাই অযথা অপেক্ষা করার কারণ নেই।


আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা আপাতত স্বস্তিতে
ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS) “ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস” ব্যবস্থা বাতিল করতে চেয়েছিল। বর্তমানে এই ব্যবস্থার আওতায় F-1 শিক্ষার্থী ও J-1 এক্সচেঞ্জ ভিজিটররা তাদের অনুমোদিত শিক্ষাক্রম বা কর্মসূচি চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারেন। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ একটি ফেডারেল আদালত দেশব্যাপী প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে এই নিয়ম কার্যকর হওয়া স্থগিত করেছে। ফলে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আগের নিয়মই বহাল থাকবে।
তবে মামলা এখনো শেষ হয়নি। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে বা আপিলে সরকারের পক্ষে রায় এলে নতুন নিয়ম আবার কার্যকর হতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের উচিত তাদের I-20 বা DS-2019 হালনাগাদ রাখা এবং নিজ প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কার্যালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা।


এল সালভাদরের TPS ধারকদের অনিশ্চয়তা

প্রায় দুই লাখ এল সালভাদরীয় নাগরিকের টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (TPS)-এর নির্ধারিত মেয়াদ ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শেষ হয়েছে। তবে DHS এখনো আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির ঘোষণা দেয়নি।
USCIS জানিয়েছে, যথাসময়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। ততদিন পর্যন্ত TPS ধারীরা তাদের সুরক্ষা ও কাজের অনুমতি বজায় রাখতে পারবেন।
এটি আপাতত স্বস্তির খবর হলেও স্থায়ী সমাধান নয়। আপনার TPS থাকলে এখনই খতিয়ে দেখুন, আপনি অন্য কোনো স্থায়ী অভিবাসন সুবিধার জন্য যোগ্য কি না।


যেখানে নিরাপদ মনে হতো, সেখানেও এখন ধরপাকড়


এই বিষয়টি নিয়ে আমি সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ICE দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে অভিবাসীদের আটক করেছে। তাদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছেন, যাদের মামলা বিচারাধীন, বৈধ ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে কিংবা যারা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় আছেন।


বহুল আলোচিত এক ঘটনায়, মার্কিন নৌবাহিনীর এক সদস্যের মাকে তার গ্রিন কার্ড সাক্ষাৎকারে আটক করে পরে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। এছাড়া USCIS নাগরিকত্ব বাতিল (Denaturalization) সংক্রান্ত মামলার জন্য রেফারেলের বিষয়ে নতুন নির্দেশনাও যুক্ত করেছে।
এর অর্থ এই নয় যে আপনি সাক্ষাৎকার বা চেক-ইন এড়িয়ে যাবেন। নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত না হলে পরিস্থিতি সাধারণত আরও জটিল হয়ে যায়। তবে আপনার অতীতে এমন কিছু থাকলে যা প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে—যেমন পুরোনো গ্রেপ্তার, পূর্ববর্তী বহিষ্কারাদেশ বা ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় থাকা—তাহলে একা না গিয়ে আগে একজন আইনজীবীর মাধ্যমে আপনার ফাইল পর্যালোচনা করিয়ে নিন।


দেরি এখন স্বাভাবিক বাস্তবতা


সহজ ও পরিষ্কার মামলাতেও এখন অনেক বেশি সময় লাগছে। USCIS ২০২৬ সালে এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন সংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তির পথে রয়েছে। সংস্থাটির জটও রেকর্ড ১ কোটি ২১ লাখ মামলায় পৌঁছেছে।


এ ছাড়া প্রমাণপত্রের অনুরোধ (RFE) এবং ‘নোটিস অব ইন্টেন্ট টু ডিনাই’ (NOID) সংক্রান্ত নতুন নীতিও ৫ আগস্ট ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।
আমার অভিজ্ঞতায়, কর্মকর্তারা আগের চেয়ে বেশি নথিপত্র চাইছেন। ফলে দুর্বল আবেদন হলে অতিরিক্ত প্রশ্ন বা নোটিস পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে। তাই শুরু থেকেই আবেদন সঠিকভাবে প্রস্তুত করে জমা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।


আমি আমার ক্লায়েন্টদের যা বলি
আপনি যা কিছু জমা দিয়েছেন, সবকিছুর কপি সংরক্ষণ করুন।
মামলা বিচারাধীন থাকলে আইনজীবীর পরামর্শ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ভ্রমণ করবেন না।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরামর্শ বা লাইসেন্সবিহীন ব্যক্তির কথায় সিদ্ধান্ত নেবেন না। কারণ একটি ভুল আবেদন অনেক সময় স্থায়ীভাবে সুযোগের দরজা বন্ধ করে দিতে পারে।
ICE, ইমিগ্রেশন কোর্ট বা অন্য কোনো সংস্থা থেকে চিঠি পেলে তা কখনো উপেক্ষা করবেন না।


আইন পরিবর্তিত হচ্ছে, তবে সব সময় একই দিকে নয়। এ বছরের বেশ কয়েকটি বড় পরিবর্তন আদালতের আদেশে স্থগিত হয়েছে। যারা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন এবং সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেন, তারা গুজবের ওপর নির্ভরশীল মানুষের তুলনায় অনেক ভালো অবস্থানে থাকেন।


ফারহান আরিয়ান, এসকোয়ার নিউইয়র্ক স্টেট এবং নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ও নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে অনুমোদিত অ্যাটর্নি অ্যান্ড কাউন্সেলর-অ্যাট-ল। তিনি Law Firm of Farhan Aryan, P.C.-এ অভিবাসন, পার্সোনাল ইনজুরি ও রিয়েল এস্টেট আইন নিয়ে কাজ করেন।

মতামত থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

banglahour
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭৭৮০০৪৭০০
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
বিশেষ প্রতিনিধিঃ তাহিরুল ইসলাম