ঢাকা, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
banglahour গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল

English

যুক্তরাষ্ট্রে সবাই থিতু হতে চায়, আমাদের দেশ থেকে সবাই পালিয়ে বাঁচতে চায়ঃ ফাহিম ফয়সাল

মতামত | ডেস্ক রিপোর্ট।

(৫৫ মিনিট আগে) ১৭ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার, ৮:৫৬ অপরাহ্ন

banglahour

ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের "পাম বিচ অঞ্চলের"। জাস্ট দেখেন কি দারুণভাবে পুরো এরিয়া সাজানো। কমবেশি সকল বাড়ি, স্থাপনা প্রায় একই উচ্চতার। বিচ এরিয়ায় হওয়া সত্ত্বেও প্রতিটি বাড়ির মাঝে রয়েছে সুবিশাল বাগান, সুইমিং পুল, প্রশস্ত রাস্তাঘাট ইত্যাদি। এটাকে বলে "গ্রীন এনভায়রনমেন্ট"। অথচ আমাদের দেশে গ্রীন এনভায়রনমেন্ট বলতে বুঝায় একটা নতুন এলাকায় পরিকল্পনা করে একই সময়ে ২টি গাড়ি যেতে ও আসতে পারে এমন সরু রাস্তাঘাট বানানো, বিশাল বিশাল অপরিকল্পিত বিল্ডিং নির্মাণ করা, এক বিল্ডিং হতে আরেক বিল্ডিং এর মাঝে সর্বোচ্চ ৮-১০ ফিট জায়গা রাখা। আর ছাদে টুকটাক গাছ লাগানো।

পুরান ঢাকা বা অনেক আগের "অপরিকল্পিত এলাকাগুলোয়" পরিকল্পনা করে রাস্তাঘাট হয়নি। তাই তীব্র যানজট, বায়ুদূষণ ও ঘিঞ্জি পরিবেশে মানুষ জীবন কাটায়। আর এখন নিউ ঢাকায় পরিকল্পনা করে রাস্তাঘাট হলেও বিল্ডিং নির্মাণের ক্ষেত্রে সঠিক কোন নীতিমালা নেই। নেই কোন পার্কিং এরিয়া। যে যেভাবে পারছে বিশাল বিশাল বিল্ডিং বানিয়ে আকাশ ছোঁয়ার চেষ্টা করছে। আগামীর শহর বা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিয়ে ভাবার সময় কারো নাই। উন্নয়নের নামে সবাই তীব্র ব্যাসায়িক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। মূলত সিমেন্টর এক বস্তিতে রুপান্তরিত হয়েছে বাংলাদেশের শহর-নগরগুলো।

জনগনের ট্যাক্সের টাকায় দেশের উন্নয়নের জন্য যে মেগা মেগা প্রজেক্টগুলো নেওয়া হচ্ছে এগুলো আপাতত বাদ দিয়ে মানুষকে গ্রামমুখী করার জন্য কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত। কারন, মেগা মেগা প্রজেক্টের নামে যে সকল উন্নয়ন হয় তা মূলত দেশ-জাতীর স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তি-গোষ্ঠীর স্বার্থই বেশি প্রাধান্য পায়। তাই যার যার এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে গ্রামে, গঞ্জে, মফস্বলে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা, সুচিকিৎসা, সুশিক্ষা, নিরাপদ খাদ্যের ব্যবস্থা করলে মানুষ আর শহরমুখী হবেনা। যুব সমাজকে মাদকমুক্ত রাখার কৌশল অবলম্বন করা, ভুরিভুরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রির চেয়ে এখন আমাদের বেশি প্রয়োজন কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

যুক্তরাষ্ট্রের "পাম বিচ অঞ্চল" ও আমাদের "কক্সবাজারের স্থাপনাগুলো" দেখলেই বুঝা যায় ওদের সাথে আমাদের চিন্তা ও পরিকল্পনার কতোটা আকাশ-পাতাল পার্থক্য। ওরা কতোটা পরিকল্পিত, গোছানো ও সুদূরপ্রসারী চিন্তা ভাবনা করে শহর, নগর, গ্রামকে গুছিয়ে "গ্রীন এনভায়রনমেন্ট" এ রূপ দেয়। তাইতো যুক্তরাষ্ট্রে সবাই থিতু হতে চায়, আর আমাদের দেশে হতে সাবই পালিয়ে বাঁচতে চায়।

একটা গল্প বলে শেষ করি।
আমার এক সিনিয়র বন্ধু জার্মাানিতে থাকেন। দীর্ঘদিন তার সাথে আমার দেখা হয়না ও কথা হয়না। বেশ কয়েকবছর আগে একবার তাকে কী যেন এক জরুরী কাজে কল দিচ্ছিলাম, এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুকেও নক দিচ্ছি কিন্তু তার কোন খবর নাই। এর বেশ কিছুদিন পর তিনি আমার টেক্সট দেখে কলব্যাক করলেন। আমি বললাম, কী আজব, কোথায় ছিলেন? তিনি বললেন, কিছুদিন অবকাশ যাপনের জন্য জার্মানির এক গ্রামে গিয়েছি। আমি বললাম, এটা কেমন গ্রাম যেখানে কাউকে কল দিলে পাওয়া যায়না। তিনি বললেন, এখানে গ্রাম মানে গ্রামই। গ্রামকে তারা শহর বানাতে চায়না। এখানে গ্রাম ও শহরের পরিকল্পনা সম্পূর্ণ আলাদা। আপনি চাইলেই গ্রামে বিশাল উঁচু দালান বানাতে পারবেন না। এদের গ্রামে ইন্টারনেট বা মোবাইল নেটওয়ার্ক নাই। তবে ল্যান্ডফোন আছে। আর অবকাশ যাপনের জন্য গ্রামে গিয়েও যদি যান্ত্রিক জীবনের ঝামেলা নিয়ে পড়ে থাকেন তবে গ্রামে যাওয়ার দরকারই বা কি?

উল্লেখ্য, ফাহিম ফয়সাল একাধারে সুরকার, সংগীতশিল্পী, কপিরাইট বিশেষজ্ঞ এবং উদ্যোক্তা। করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা। বর্তমানে মাল্টিমিডিয়া স্পেশালিস্ট হিসেবে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন দেশের ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রি ও ডিজিটাল সেক্টরের ডেভেলপমেন্ট নিয়ে। সংগীতশিল্পী ফাহিম ফয়সালের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গান হচ্ছে- নীলচে আকাশ, ক্ষমা, আঙুল ছুঁতে চাই, সিজদাহ করি তোমায়, প্রাণ খুলে ডাকি তোমারে, চোখের মাঝে চোখ, ভালোবাসার শেষ খেয়াল ইত্যাদি।

মতামত থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

banglahour
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭৭৮০০৪৭০০
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
বিশেষ প্রতিনিধিঃ তাহিরুল ইসলাম