চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের ওসমানপুর গ্রামে চয়ন (৪৫) নামের এক পেঁয়াজু-আলুর চপ বিক্রেতাকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর মরদেহটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে অজ্ঞাত এক ভ্যানচালক নিহত চয়নের মরদেহ আলমডাঙ্গার হারদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতের স্বজনদের দাবী, চয়নকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত চয়ন আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের কৃষি ক্লাবপাড়ার সারজেত আলী গেদুর ছেলে। তিনি প্রত্যেকদিন পেঁয়াজু-আলুর চপ বিক্রি করে সংসার চালাতেন।
নিহত চয়নের পরিবারিক সূত্র দাবী করেছে, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা ১১টা ১৩ মিনিটে চয়নের ছেলে মারুফের মুঠোফোনে কল করেন ওসমানপুর গ্রামের নতুনপাড়ার বর্তমান বাসিন্দা ও কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার আসানগর গ্রামের ইয়ামিনের ছেলে হেলাল (৩৮) নামের এক ব্যক্তি। ফোনে তিনি চয়নের কাছে টাকা পাওনা রয়েছে দাবী করে তাঁকে স্ট্যাম্পসহ সেখানে যেতে বলেন। ওই ফোনকলের পর চয়ন বের হয়ে যান। পরবর্তীতে তাঁরা ওসমানপুর এলাকায় গিয়ে জানতে পারেন চয়ন আর বেঁচে নেই। এর কিছুক্ষণ পরই বেলা সাড়ে ৩টার দিকে এক অজ্ঞাত ভ্যানচালক চয়নের মরদেহ হারদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে চলে যান। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে দাবী করেছেন তার স্বজনরা।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। আবার কোনো কোনো সূত্র নারীঘটিত বিষয় কিংবা পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধের কথা তুললেও এর কোনোটিই এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অন্যদিকে, ফোন করে চয়নকে ডেকে নেয়া হেলালের নাম সামনে এলেও হত্যাকাণ্ডে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা স্পষ্ট হওয়া যায়নি।
খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আলমডাঙ্গা থানার পুলিশ (উপ-পরিদর্শক) মেহেদী হাসান জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন করার সময় নিহত চয়নের গলার কাছে একটি রক্তাক্ত জখম দেখা যায়। তার শরীরের পেছনের অংশে কালশিটে দাগ রয়েছে। এদিন বিকালে মরদেহটি উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) বিকাশ চন্দ্র সরকার জানান, চয়নের মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং এর পেছনে কারা জড়িত তা তদন্তের পরই বিস্তারিত জানা যাবে। তবে সুরতহাল প্রতিবেদনে তার শরীরে বড় কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
