দেবী দুর্গার আগমনের অপেক্ষায় এখন উৎসবের আমেজ কিশোরগঞ্জে। জেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এরই মধ্যে মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতে শেষ হয়েছে প্রতিমা তৈরির কাজ। মাটির প্রতিমায় ফুটে উঠেছে দেবী দুর্গাসহ অন্য দেব-দেবীর রূপ। তবে উৎসবের এই প্রস্তুতির মধ্যেও কিছুটা দুশ্চিন্তায় মৃৎশিল্পীরা। বাড়তি উপকরণ খরচ আর তুলনামূলক কম মজুরিতে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে তাদের ঐতিহ্যবাহী এই পেশা। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ ও হাওরের মণ্ডপগুলোতে থাকবে নৌ টহল।
আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গা পূজা। কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন মণ্ডপে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এরই মধ্যে মন্ডপে মন্ডপে শেষ হয়েছে প্রতিমা তৈরির কাজ। মৃৎশিল্পীর নিপুণ হাতে মাটির তৈরি প্রতিমায় ফুটে উঠেছে দেবী দুর্গার সৌন্দর্য ও মহিমা। রঙের আঁচড়ে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা। কোথাও ঐতিহ্যবাহী সাজ, আবার কোথাও আধুনিক নকশায় তৈরি করা হয়েছে প্রতিমা। আর প্রতিমা তৈরী করতে সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন মৃৎশিল্পীরা। তবে এই প্রতিমার আড়ালেই রয়েছে মৃৎশিল্পীদের না বলা গল্প। সারাদিনের পরিশ্রম শেষে শ্রমের তুলনায় মজুরি কম। অন্যদিকে মাটি, খড়, রংসহ প্রতিমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামের দাম বেড়েছে। ভবিষ্যৎ নিয়েও দুশ্চিন্তা এই শিল্পীদের।
আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। শেষ হবে ২১ অক্টোবর। এবার দেবীর আগমন ঘটকে এবং গমন নৌকায়। তাই ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি উৎসবকে ঘিরে রয়েছে নানা প্রত্যাশা।
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দুর্গাপূজা এখন পরিণত হয়েছে সার্বজনীন এক উৎসবে। তাই শান্তি-সম্প্রীতি আর সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব উদযাপনে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা।
জীবন চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক, পুজা উদযাপন ফ্রন্ট, কিশোরগঞ্জ। তিনি বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ছুটি বাড়ানোর সেই দাবি বর্তমান সরকার পুরোন করেছে সেজন্য সরকার কে ধন্যবাদ ।
এবার কিশোরগঞ্জ জেলায় ৪১৩টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপূজা। প্রতিটি মণ্ডপে দেওয়া হয়েছে ৬০০ কেজি করে চালের বরাদ্দ। পুজাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মন্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা স্থাপনে জোর দেওয়া হয়েছে।
মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, পুলিশ সুপার, কিশোরগঞ্জ জানান,গুরুত্বপূর্ণ ও হাওরের পূজা মণ্ডপগুলোতে নৌ টহলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে মোবাইল কোর্ট।
সোহানা নাসরিন, জেলা প্রশাসক, কিশোরগঞ্জ জানান মহালয়ার আগমনী বার্তা থেকে শুরু করে বিসর্জনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উৎসবের রঙে রাঙাতে প্রস্তুত কিশোরগঞ্জের ৪১৩টি পূজা মণ্ডপ। এখন অপেক্ষা শুধু দেবী দূর্গার আগমনের।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
