ঢাকা, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
banglahour গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল

English

কটিয়াদীতে ‘মেয়েধরা’ সন্দেহে নারীকে মারধর, শিশুসহ পুলিশের হাতে সোপর্দ

সারাদেশ | মিয়া মোহাম্মদ ছিদ্দিক কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি।

(২ সপ্তাহ আগে) ৮ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ২:১৮ অপরাহ্ন

banglahour


কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ‘মেয়েধরা’ সন্দেহে এক নারীকে মারধরের পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে উত্তেজিত জনতা। এ সময় ওই নারীর সঙ্গে থাকা সাত বছর বয়সী এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে পুলিশ ওই নারীকে হেফাজতে নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোব) কটিয়াদী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বেথৈর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

উদ্ধার হওয়া শিশুটির নাম ইলমা (৭)। সে বেথৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং একই এলাকার জামাল মিয়ার মেয়ে।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারীর নাম প্রিয়া (২৫) বলে জানা গেছে। তিনি নিজেকে বাজিতপুর উপজেলার দিঘীরপাড় এলাকার বাসিন্দা বলে দাবি করেছেন। তবে তাঁর পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই করা হচ্ছে।

বিদ্যালয়, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে ৬৩ নম্বর বেথৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে কয়েকজন শিক্ষার্থী অবস্থান করছিল। এ সময় কালো বোরকা পরা এক নারী কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নাম ধরে ডাকেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে তিনি ইলমাকে বিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে যান।

বিষয়টি কয়েকজন শিক্ষার্থীর নজরে পড়লে তারা ওই নারীর পিছু নেয়। পরে তারা দেখতে পায়, ইলমাকে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও দপ্তরি শহিদুল্লাহকে জানায়। খবর পেয়ে শিশুটির পরিবারের সদস্যরাও খোঁজ শুরু করেন।

পরে শিশুটির বাবা বিদ্যালয় থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে পিপুলিয়া এলাকায় গিয়ে অটোরিকশাটির সন্ধান পান। এ সময় স্থানীয় লোকজন ওই নারীকে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

পরে উত্তেজিত জনতা ওই নারীকে মারধর করে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসে এবং সেখানে আটকে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

শিক্ষার্থী ইলমা জানায়, ওই নারী তাকে তার বাবা দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন। পরে তিনি ইলমাকে কানের দুল খুলে দিতে বলেন।

বেথৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা কিশো আর সুলতানা বলেন, ‘দুপুরে নিচের শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরছিল এবং পরের শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসছিল। বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভা ও শিক্ষা অফিসের একজন কর্মকর্তার আসার বিষয় নিয়ে আমরা দাপ্তরিক আলোচনায় ছিলাম। পরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানতে পারি, এক নারী এসে এক শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাচ্ছেন। এরপর আমরা দ্রুত খোঁজ শুরু করি।’

এদিকে পুলিশ হেফাজতে থাকা প্রিয়া নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তবে বিদ্যালয় থেকে শিশুটিকে কেন নিয়ে এসেছিলেন, এ বিষয়ে তিনি কোনো উত্তর দেননি।

কটিয়াদী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ বলেন, খবর পেয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁকে থানায় নিয়ে আসার সময় উত্তেজিত জনতা ফের মারধরের চেষ্টা করে। এ সময় তিন-চারজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের গাড়ির একটি গ্লাসও ভেঙে গেছে।

এসআই মাসুদ আরও বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি।

 

 

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

banglahour
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭৭৮০০৪৭০০
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
বিশেষ প্রতিনিধিঃ তাহিরুল ইসলাম