ঢাকা, ১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
banglahour গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল

English

কন্যা শিশুদের অধিকার রক্ষা ও বাল্যবিয়ে রোধে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস

জাতীয় | আমজাদ হোসেন মিঠু। ঢাকা।

(১১ ঘন্টা আগে) ১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ৫:০১ অপরাহ্ন

banglahour

কন্যা শিশুদের সার্বিক সুরক্ষা, শিক্ষা, সমঅধিকার নিশ্চিতকরণ এবং বাল্যবিয়ে রোধের বৈশ্বিক আহ্বান নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস ২০২৬’। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও সামাজিক সংগঠন বিশ্বজুড়ে দিনটি উদযাপনে নানামুখী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।


এ বছর দিবসটির বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে—“বাল্যবিয়ে রোধ করি, কন্যা শিশুর অধিকারে বিনিয়োগ করি” ("End Child Marriage and Invest in Girls' Rights!")।
ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট
২০১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি বছর ১১ অক্টোবরকে বিশ্বজুড়ে ‘আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর প্রথম আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস উদযাপিত হয়েছিল। বিশ্বজুড়ে লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণ, কন্যা শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনি অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের ওপর ঘটে চলা পারিবারিক ও সামাজিক নিপীড়ন প্রতিরোধের লক্ষ্যেই দিবসটির সূচনা হয়।
সংকট ও বৈশ্বিক বাস্তবতা
জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ (UNICEF)-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে এখনো কোটি কোটি কন্যা শিশু তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।


বাল্যবিয়ে: বিশ্বজুড়ে এখনো বড় বাধা বাল্যবিয়ে। দারিদ্র্য, সামাজিক অনাচার এবং সচেতনতার অভাবে প্রতিবছর লাখ লাখ কম বয়সী মেয়ে বাল্যবিয়ের শিকার হচ্ছে। শিক্ষায় প্রবেশাধিকার: উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রাথমিক স্তর পার হওয়ার পর ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর বড় অংশই কন্যা শিশু।
  প্রযুক্তি ও বৈষম্য: ডিজিটাল বাংলাদেশ বা আধুনিক বিশ্বের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে তাল মেলাতে এখনো প্রযুক্তি ব্যবহারে ও দক্ষতায় কন্যা শিশুরা পিছিয়ে পড়ছে।


বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ও উদ্যোগ
বাংলাদেশে কন্যা শিশুদের সুরক্ষায় গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় মেয়েদের উপবৃত্তি, বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ ও নারী শিক্ষার হারে ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এখনো বড় একটি চ্যালেঞ্জ।


বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশজুড়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক সেমিনার, র্যালি, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে বাল্যবিয়ে বন্ধে 'কৈশোর ক্লাব' ও হটলাইন সেবা (যেমন ১০৯) সক্রিয় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাণী ও আহ্বান
দিবসটি উপলক্ষে জাতিসংঘের মহাসচিব এক বিশেষ বাণীতে উল্লেখ করেন, "প্রতিটি কন্যা শিশু যেন নিরাপদে বেড়ে উঠতে পারে, নিজের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারে এবং নিজের জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার পায়—তা নিশ্চিত করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব।"


দেশি-বিদেশি মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল আইন প্রণয়ন করেই কন্যা শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন, পারিবারিক মানসিকতার উন্নয়ন এবং শিক্ষা ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে তাদের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

জাতীয় থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

banglahour
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭৭৮০০৪৭০০
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
বিশেষ প্রতিনিধিঃ তাহিরুল ইসলাম