ঢাকা, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
banglahour গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল

English

সিলেট নগরীতে কুকুরের টিকাদান কার্যক্রম শুরু

সারাদেশ | বিলকিস সুমি। ব্যুরো প্রধান। সিলেট।

(১৩ ঘন্টা আগে) ১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ৩:০০ অপরাহ্ন

banglahour

সিলেট নগরীতে জলাতঙ্কের ঝুঁকি কমাতে কুকুরের গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডে ১৫ দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে প্রতিটি কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হবে। টিকা দেওয়া কুকুরগুলোকে বিশেষ রং দিয়ে চিহ্নিত করা হবে।

সকালে নগরীর মির্জাজাঙ্গালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে জলাতঙ্ক রোগ নির্মূল কর্মসূচির আওতায় ‘Mass Dog Vaccination Campaign’-এর উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এসব কথা বলেন।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিলেট নগরীকে সুন্দর ও নিরাপদ করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কুকুরের টিকাদান। প্রাণী নিধন করা যাবে না। তাই কুকুরকে টিকা দেওয়ার মাধ্যমে নগরবাসীকে জলাতঙ্কের ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কুকুরের উপদ্রব রয়েছে। বিশেষ করে যেখানে উচ্ছিষ্ট ও পরিত্যক্ত খাবার পড়ে থাকে, সেসব এলাকায় কুকুরের বিচরণ বেশি। সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য অপসারণের আগের সময়েও কুকুরগুলো খাবারের সন্ধানে এসব স্থানে জড়ো হয়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকাতেও কুকুরের উপদ্রবের কথা জানানো হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নগরবাসীর নিরাপত্তার জন্য এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

সিসিক প্রশাসক বলেন, কুকুরের টিকাদান করা হলে কুকুরের কামড়ের মাধ্যমে জলাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমবে। তবে কেউ কুকুরের কামড়ের শিকার হলে কোনোভাবেই বিষয়টি অবহেলা করা যাবে না। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে জলাতঙ্কের টিকা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, আগে কুকুরের উপদ্রব বেড়ে গেলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো কুকুর নিধনের উদ্যোগ নিত। বর্তমানে প্রাণী নিধনের সুযোগ নেই। তাই টিকাদানের মাধ্যমে কুকুর থেকে মানুষের জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমানোই কার্যকর পথ। সিসিক নাগরিকদের কল্যাণে কাজ করে। তাই প্রাণিসম্পদ বিভাগের উদ্যোগকে সহযোগিতা করে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশন অর্থসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।

নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, কোনো এলাকায় কুকুরের উপদ্রব বেশি হলে সিটি কর্পোরেশনকে জানাতে হবে। সিসিকের হটলাইন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে তথ্য দেওয়া যাবে। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কর্মসূচিটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন এলাকা ও প্রতিষ্ঠান থেকে কুকুরের উপদ্রব নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর সিটি কর্পোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ সমন্বিতভাবে এ কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। সিসিকের অর্থায়নে ১৫ দিনব্যাপী নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডে টিকাদান কার্যক্রম চলবে। প্রতিটি কুকুরকে টিকা দেওয়ার পর বিশেষ রং দিয়ে চিহ্নিত করা হবে। এতে টিকা দেওয়া ও না দেওয়া কুকুর সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জোনায়েদ কবীরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম, ম্যাস ডগ ভ্যাকসিনেশন এক্সপার্ট ডা. হাবিবুর রহমান, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ভেটেরিনারি সার্ভিসের টিম কো-অর্ডিনেটর ডা. মো. কামরুল ইসলাম ও হাসান সাইয়েদুল মুরসালিন। উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধি ডা. আবু সালমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাহিদ আরজুমান বানু, ডা. আব্দুস শহিদ হোসেন, ডা. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ও ডা. শারমিন আক্তার।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় এ কর্মসূচিতে কারিগরি সহায়তা ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে। ১৫ দিনব্যাপী কর্মসূচিতে নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডের প্রতিটি কুকুরকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করা হবে এবং টিকাপ্রাপ্ত কুকুরগুলোকে রং দিয়ে চিহ্নিত করা হবে।

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

banglahour
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭৭৮০০৪৭০০
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
বিশেষ প্রতিনিধিঃ তাহিরুল ইসলাম