ঢাকা, ৭ নভেম্বর ২০২৬, শনিবার, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
banglahour গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল

English

আদালতের সামনে উদ্বিগ্ন স্বজনদের আহাজারি

জাতীয় | অনলাইন ডেস্ক

(২ বছর আগে) ২৯ জুলাই ২০২৪, সোমবার, ১১:২৯ পূর্বাহ্ন

banglahour

চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শ্রমিক, দিনমজুর, ব্যবসায়ীদেরও যেতে হচ্ছে কারাগারে। রাজধানীতে সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর, সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনায় রোববার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২২৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে রাজধানীতে ২২৯ মামলায় মোট গ্রেফতার ২ হাজার ৭৬৪ জন।

রোববার সরেজমিন ঢাকার আদালত ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে চলছে স্বজনদের আহাজারি। আদালতে একেকটি প্রিজন ভ্যান আসছে আর তাতে আপনজনের খোঁজে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন উদ্বিগ্ন স্বজনরা। তাদের কেউ ভাই, কেউ সন্তান, কেউ বাবা আর কেউ বা স্বামীর সন্ধানে ভোরের আলো না ফুটতেই এসেছেন আদালতে। গেল কয়েকদিনের ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে’ জড়িত সন্দেহে পুলিশ ও ডিবি পুলিশ তাদের স্বজনদের গ্রেফতার করেছে।

শারমিন আক্তার স্বর্ণা মা ও ১০ বছরের ছোট ভাই জোনায়েদকে নিয়ে আদালতে এসেছেন তার বাবার জন্য। শনিবার বিকালে বাজার করে বাসায় ফেরার সময় তার বাবা আক্তার হোসেনকে আটক করেছে পল্লবী থানা পুলিশ। তিনি বলেন, আমার বাবা গার্মেন্টসের ব্যবসা করেন। গত শনিবার বাজার করে বাসায় ফেরার সময় বাবাকে পুলিশ ধরেছে। আমাদের পরিবারের একমাত্র গার্ডিয়ান আমার বাবা। আমাদের এভাবে হয়রানি করার মানে কী বুঝতে পারছি না। সাধারণ মানুষকে কেন এভাবে হয়রানি করা হচ্ছে? পাশেই অঝোরে কাঁদছিলেন আক্তার হোসেনের স্ত্রী। তিনি বলেন, আমার স্বামীর বয়স ৫০ বছর। তিনি তো কোনো কিছুতে যাননি। তাকে ধরে নিয়ে এসেছে। এখন আমার পরিবারের কী হবে, কে দেখবে আমাদের?

ঢাকা পলিটেকনিকের ইন্টার্ন শিক্ষার্থী সাদ্দাম হোসেন শনিবার কলেজের হলে এসেছিলেন নিজের বই, খাতা ও শিট নেওয়ার জন্য। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তখন তাকে আটকে রাখে। দীর্ঘ ৩-৪ ঘণ্টা নির্যাতনের পর তারা তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে পুলিশ তাকে মোটরসাইকেল পোড়ানো, মারধর, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের মামলায় গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। সাদ্দামের ভাই হানিফ বলেন, আমার ছোট ভাই গাজীপুরে আমার কাছেই থাকত। ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ার পরই ও বাসায় চলে যায়। গতকাল বই, খাতা, শিট আনার জন্য ক্যাম্পাসের ছাত্রলীগের বড় ভাইদের ফোন দেয়। তারা ওকে যেতে বলে। ক্যাম্পাসে যাওয়ার পর ওকে রুমে আটকে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা মারধর করেছে। ও এখন স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারছে না। মারধরের পর ওরা আমার ভাইকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। আমার ভাই সাধারণ শিক্ষার্থী। সে কোনো ঝামেলায় কখনো যায়নি।

পিকআপচালক রনির স্ত্রী আলো আক্তার ৬ মাসের সন্তানকে নিয়ে ঘুরছেন আদালতের সামনে। তিনি  বলেন, আমার স্বামী পিকআপ চালায়। ঘরে বাজার না থাকায় বের হয়েছিলেন খাবার কিনতে। এরপর জানতে পারি তাকে ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ। তাকে ছাড়ানোর জন্য পুলিশকে টাকা দিলেও তারা রনিকে ছাড়েনি।

শুধু স্বর্ণা, হানিফ বা আলো আক্তারই নন, এমন শত শত স্বজনের আহাজারিতে প্রতিদিনই ভারী হয়ে উঠছে আদালতপাড়া। কমপক্ষে ১৫ জন ভুক্তভোগীর সঙ্গে  কথা বলেছেন। এর মধ্যে ছাত্রদের পাশাপাশি মাঝবয়সি, ব্যবসায়ী, শ্রমিকও রয়েছেন। যাদের সহিংসতার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জাতীয় থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

banglahour
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭৭৮০০৪৭০০
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
বিশেষ প্রতিনিধিঃ তাহিরুল ইসলাম