প্রথমবারের মতো কমনওয়েলথে ‘কমনওয়েলথ-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রিন ইনভেস্টমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়েছে। মালাউই-এর কৃষিতে সবুজ প্রযুক্তির প্রসারে বিশেষ অবদান রাখায় ‘প্ল্যানেট গ্রিন আফ্রিকা’কে এই পুরস্কার দেয়া হয়। মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) লন্ডনে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ‘কমনওয়েলথ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিট’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান প্ল্যানেট গ্রিন আফ্রিকাকে এই পুরস্কার প্রদান করেন।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সালমান এফ রহমান বলেন, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগেই ১৯৭২ সালের ১৮ এপ্রিল কমনওয়েলথে বাংলাদেশ সদস্যপদ লাভ করে। বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁরই সুযোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে মালাউই-এর প্ল্যানেট গ্রিন আফ্রিকাকে এই পুরস্কার হস্তান্তর করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। আশা করি, এই পুরস্কার কমনওয়েলথভুক্ত ৫৪টি সদস্য দেশে জলবায়ু-বান্ধব ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি-নির্ভর টেকসই ব্যবসায়ের প্রসার উৎসাহিত করবে।”
সালমান এফ রহমান বাংলাদেশ সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে কমনওয়েলথের মহাসচিব এবং সিডব্লিউইআইসির চেয়ারম্যানকে ‘বঙ্গবন্ধু গ্রিন ইনভেস্টমেন্ট অ্যাওয়ার্ড' ঘোষণার জন্য ধন্যবাদ জানান। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সিডব্লিউইআইসি-এর অফিসিয়াল কৌশলগত সদস্য হিসেবে যোগদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘কমনওয়েলথের বিজনেস-টু-বিজনেস কানেক্টিভিটি লিড কান্ট্রি হিসেবে বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের আন্তঃকমনওয়েলথ বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রার অর্জন ত্বরান্বিত করতে সিডব্লিউইআইসি -এর গ্লোবাল নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি যুক্তরাজ্যের কমনওয়েলথ, জ্বালানি, জলবায়ু ও পরিবেশ বিষয়কমন্ত্রী লর্ড গোল্ডস্মিথ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশের অনুকূল ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, নারীর ক্ষমতায়ন ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশসহ কমনওয়েলথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃতে তাঁর সরকারের অসাধারণ ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাদের বছরের পর বছর ধরে আশ্রয় ও সুরক্ষা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম অনুষ্ঠানে জাতির পিতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘স্বাধীনতার পর পরই বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে প্রথম কমনওয়েলথ-এর সদস্যপদ লাভ করে এবং বঙ্গবন্ধু কমনওয়েলথ-এর মূল্যবোধের প্রতি তাঁর দ্ব্যর্থহীন প্রতিশ্রুতি ও একাত্মতা ঘোষণা করেন।
‘বঙ্গবন্ধু গ্রিন ইনভেস্টমেন্ট অ্যাওয়ার্ড' গ্রহনের পর প্ল্যানেট গ্রিন আফ্রিকার প্রতিনিধি এমবুনডেরি কাম্পেসি এই পুরস্কার প্রদানের জন্য তাঁর প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কমনওয়েলথ এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কাউন্সিলসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “কমনওয়েলথ এবং বাংলাদেশের জাতির পিতার নামে প্রবর্তিত এই বিশেষ অ্যাওয়ার্ড প্ল্যানেট গ্রিন আফ্রিকাসহ কমনওয়েলথ পরিবারে পরিবেশ-বান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও জলবায়ূ-বান্ধব ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্যোগকে আরো উৎসাহিত করবে।
অনুষ্ঠানে কমনওয়েলথভুক্ত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজজের প্রতিনিধি, বিশিষ্ট ব্রিটিশ ও ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী এবং বিভিন্ন পেশাজীবীসহ ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
