ঢাকা: ঢাকায় যুগ যুগ ধরে কর্মরত আওয়ামী সরকারের ক্যাডাররা এখন ভোল পাল্টাচ্ছে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে সরকারের দলীয় ক্যাডার হয়ে কাজ করার পর সরকার পতনের পর তারা এখন নিজেদেরকে অন্য ধারায় উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন।
মোঃ রায়হান বাদশা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও সদস্য ও বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ। তার শ্বশুর বাড়ি গোপালগঞ্জের সুবাধে সে গোপালগঞ্জ এর ক্ষমতা অপব্যবহার করে ইইডি এর এসিদের সর্বোচ্চ পদ ঢাকা বিভাগের ১৭ জেলার (গোপালগঞ্জ সহ) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে প্রায় ৬ বছর এর বেশি সময় যাবত ঢাকা অফিসে বসে গোপালগঞ্জ এর ক্ষমতা অপব্যবহার করে ১৭ জেলার কর্তৃত্ব করেছেন।
এছাড়া রায়হান বাদশা গোপালগঞ্জ জেলায় ১০ বছর চাকরি করার সুবাদে গোপালগঞ্জ কেন্দ্রিক একটা বিশাল সিণ্ডিকেট তৈরি করে ফেলে,১৭ জেলাকে নিয়ন্ত্রন করত। চট্টগ্রাম ও খুলনাতে তার বদলির ফাইল ২ বার মন্ত্রনালয় প্রেরন করা হলেও গোপালগঞ্জ এর ক্ষমতা অপব্যবহার করে সে তা আটকিয়ে দেয়।

সাবেক শিক্ষা মন্ত্রীর একান্ত ঘনিষ্ঠ ও মন্ত্রীর ভাই ডা: টিপু এর সিন্ডিকেট এর পার্টনার আবুল হাশেম সর্দার, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও সহ-সভাপতি-২ , বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ। সে সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন। নিয়োগ বানিজ্য, বদলী বানিজ্য, টেন্ডার বানিজ্য করে শত শত কোটি টাকা আয় করেছেন তিনি আর ডা: টিপু।
মন্ত্রী আর টাকার অবৈধ ক্ষমতা দাপট দেখিয়ে ঢাকায় ১৫ বছর এর বেশি সময় ধরে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ এবং বিদেশে অর্থ পাচার করেছেন। মন্ত্রীর ক্ষমতা দাপট দেখিয়ে তিনি সবাইকে ভয় ভীতিতে রাখতেন এবং তার কথা না শুনায় ক্ষমতা দেখাতে ইইডির কোন প্রস্তাব ছাড়াই মন্ত্রীকে দিয়ে নেত্রকোনা ও চাপাইনবাবগঞ্জ এর এক্সেন কে বদলি করিয়ে দেন।
এছাড়া আফরোজা বেগম, সমীর কুমারসহ ইইডির অনেকের নাম সংগ্রহ সম্ভব হয়নি যারা বিগত আওয়ামী সরকারের সদস্য ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ঢাকার প্রধান কার্যালয়, ঢাকা সার্কেল, ঢাকা মেট্রো সার্কেলের বিভিন্ন পদে ১০-১৫ বছর যাবত কর্মরত থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দূর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার অবইধ সম্পদ করেছেন।
সরকারি কর্মচারীদের প্রতি তিন বছর অন্তর অন্তর বদলির সরকারের অনুশাষন থাকলেও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর যেন এক অনিয়মের আখড়ায় পরিনত হয়েছে।
এখন প্রয়োজন একটি শুদ্ধি অভিযান যার মাধ্যমে সকল বৈষম্য দুর করা যাবে, তাহলে এই ডির্পামেন্টের সারা দেশের কর্মকর্তারা একটি নিয়মের মধ্যে থাকবে বলে আশা করা যায়।
স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের দুর্নীতিবাজ বিভিন্ন পদধারী ব্যক্তিদেরকে সরকারের বিভিন্ন পদে বসানোর ষড়যন্ত্র চলছে। দুর্নীতির কারণে তাদের বিরুদ্ধে কয়েকবার বিভাগীয় মামলাও রুজু করা হয়।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্দেশ্য হচ্ছে যারা দীর্ঘদিন যাবত আওয়ামী সরকারের ঢাকায় দলীয় ক্যাডার ছিল তাদেরকে বাদ দিয়ে বঞ্চিত ও দূরদূরান্তে যারা চাকরি করছেন ও নানাভাবে শোষিত ও নিপীড়িত হয়েছেন তাদেরকে যোগ্য পদে আসীন দেখা।
উক্ত বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের তালিকা থেকে কাউকে কোনো উচ্চতর পদে নিয়োগ না দেয়ার জন্য বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দৃষ্টি আকর্ষন করেছে ভুক্তভোগীরা।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
