ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে মানবাধিকার ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্ক শীতল থাকায় এই নির্বাচন পরবর্তী কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হিসেবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা উষ্ণতা দেখা দিয়েছে। ইউনূসের সঙ্গে ডেমোক্র্যাট নেতা ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সম্পর্কও ইতিবাচক। তবে রিপাবলিকান পার্টির নেতাদের সঙ্গেও ড. ইউনূসের সুসম্পর্ক রয়েছে বলে তার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ২০১৬ সালে ট্রাম্পের প্রথম জয়কে ড. ইউনূস একটি "অন্ধকার সময়" হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন, যা নতুন সম্পর্কের গতিপথ নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করে।
ট্রাম্পের বিজয়ে ভারতের সঙ্গে তার দৃঢ় সম্পর্ক বাংলাদেশে কূটনৈতিক দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ট্রাম্পকে "বন্ধু" হিসেবে উল্লেখ করে তাকে অভিনন্দন জানানোয় এবং ট্রাম্পের সঙ্গে তার গভীর বন্ধুত্ব বাংলাদেশকে প্রভাবিত করতে পারে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের প্রতি ভারতের সমর্থন থাকায়, ট্রাম্প-মোদি বন্ধুত্ব এই অঞ্চলে একটি জটিল কূটনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সাম্প্রতিক টুইটে তিনি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন, যা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। বিশ্লেষক ড. আলী রীয়াজ মনে করেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্যে মার্কিন রাজনীতিতে ভারতীয় লবির প্রভাব স্পষ্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম. হুমায়ুন কবির মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত বাংলাদেশকে ভারতের চোখ দিয়ে দেখে এবং এ অঞ্চলে মার্কিন কূটনীতির প্রধান লক্ষ্য চীনকে প্রতিহত করা। তাই, ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে আলাদাভাবে বিবেচনা না করে ভারত ও চীনের প্রসঙ্গকে মাথায় রেখে তাদের সম্পর্ক রক্ষা করবে।
অর্থনৈতিক দিক থেকে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আইনুল ইসলাম মনে করেন, বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতে পারলে ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য নীতি বাংলাদেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। তবে, যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েন চলতে থাকলে বাংলাদেশ সেই বাজারগুলিতে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে।
সম্ভাবনা ও সতর্কতার পথে বাংলাদেশ
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
