ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একই দিনে দুটি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া জটিলতার অবসান হয়েছে। রোববার (১৫ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সমঝোতার মাধ্যমে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) তাদের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল পিছিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিন দুপুরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদেরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল এবি পার্টির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন এই সংলাপে মধ্যস্থতা করেন। চার ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার পর উভয় দল বৃহত্তর ঐক্য ও সংহতির স্বার্থে একটি সমঝোতায় পৌঁছায়।
সমঝোতার প্রেক্ষাপট
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর এবি পার্টির প্রথম জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের জন্য মাঠ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছিল দলটি। একই দিনে খেলাফত মজলিসও তৃণমূল সম্মেলনের জন্য মাঠ বরাদ্দ চেয়েছিল। গণপূর্ত অধিদপ্তর উভয় দলের আবেদনের প্রেক্ষিতে এবি পার্টিকে মাঠ বরাদ্দের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। তবে খেলাফত মজলিস তাদের কর্মসূচির প্রচার, গেট নির্মাণসহ প্রস্তুতি সম্পন্ন করায় মাঠ নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
এবি পার্টির তারিখ পরিবর্তন
বৈঠকের পর এবি পার্টি জানায়, খেলাফত মজলিসের অনুরোধে তারা তাদের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের তারিখ পিছিয়ে ১০ ও ১১ জানুয়ারি অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির সদস্যসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, "জাতীয় ঐক্য ও সংহতির স্বার্থে আমরা তারিখ পরিবর্তন করেছি। এতে আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে আরও শক্তিশালী হব।"
খেলাফত মজলিসের কৃতজ্ঞতা
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের বলেন, "আমাদের সম্মেলন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের সুযোগ দেওয়ায় আমরা এবি পার্টির প্রতি কৃতজ্ঞ।"
মধ্যস্থতাকারীর বক্তব্য
ইসলামী আন্দোলনের অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, "আমাদের মধ্যে কোনো ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নেই। আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ।"
উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে উভয় দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে এ সমঝোতার ঘোষণা দেন। এটি জাতীয় রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
