ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কাতারের রাজধানী দোহায় হামাসের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে গাজার পুনর্নির্মাণ ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
হামাস নেতাদের সঙ্গে আলোচনা
ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হামাসের শুরা উপদেষ্টা পরিষদের প্রধান মোহাম্মদ দারওইশ এবং সংগঠনের প্রধান আলোচনাকারী খালিল আল-হাইয়া। আলোচনার মূল বিষয়গুলো ছিল:
- গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার উপায়
- বন্দি বিনিময় প্রসঙ্গ
- ইসরাইলের পক্ষ থেকে গাজার পুনর্নির্মাণ প্রচেষ্টার সমালোচনা
দারওইশ গাজার সাম্প্রতিক হামলা সম্পর্কে বলেন, “আল-আকসা স্টর্ম অপারেশন ফিলিস্তিনি সংগ্রামের মোড় পরিবর্তন করেছে। ইসরাইলের দমনপীড়ন ও উচ্ছেদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।" তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার, পবিত্র স্থান ও আল-আকসা মসজিদ রক্ষার দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি ফিলিস্তিনের প্রতি ইরানের অটল সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং গাজার প্রতিরোধকে “ইসরাইলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের দাবিকে মিথ্যা প্রমাণিত করার" দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “গাজার সাহসী প্রতিরোধ যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময়ের পথ তৈরি করেছে, যা ১৫ মাসের সংঘাতের পর গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।”
কাতারি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান আল থানি-র সঙ্গেও বৈঠক করেন। আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল:
- গাজা ও দখলকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চল
- সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতা
- আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার
আরাগচি বলেন, “ইসরাইল বারবার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে এবং শান্তি প্রচেষ্টায় বাধা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আল থানি কাতার-ইরান সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইরানের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এই বৈঠক ইরান, হামাস ও কাতারের মধ্যে কূটনৈতিক সমন্বয় জোরদার করতে পারে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
