ঢাকা, ১৬ মে — বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জনপদ, প্রাণ-প্রকৃতি ও জনজীবন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। শতাধিক নদ-নদী আজ মৃতপ্রায়, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাচ্ছে দ্রুত, আর কৃষিকাজ পড়ছে সংকটে।
শুক্রবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি (আইএফসি) আয়োজিত ফারাক্কা লংমার্চ দিবসের গণসমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদার এবং প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান।
কাদের গনি বলেন, গঙ্গা-পদ্মার দুই হাজার কিলোমিটার নৌপথ অচল হয়ে পড়েছে, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, খুলনা অঞ্চলে ধান উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে। লবণাক্ততার প্রভাবে উপকূলীয় মানুষ পানির সংকটে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গঙ্গার পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে নদীগুলোর আয়তন কমে গেছে, দেশীয় মাছ ও জলজ প্রাণী বিলুপ্ত হচ্ছে। ভারত উজানের রাষ্ট্র হিসেবে সৎ প্রতিবেশীর ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের নীরবতা এবং ভারতের বারবার আশ্বাসের বাস্তবায়ন না হওয়ারও কঠোর সমালোচনা করেন কাদের গনি চৌধুরী। তিনি বলেন, “পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি মওলানা ভাসানী ও শহীদ জিয়ার নেতৃত্বের কথা স্মরণ করে বলেন, ফারাক্কার মতো মরণবাঁধের বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে।
পানি ইস্যুকে দলীয় নয় বরং জাতির অস্তিত্ব রক্ষার বিষয় হিসেবে তুলে ধরে কাদের গনি আন্তর্জাতিক ফোরামে আলোচনার দাবি জানান এবং দেশের অভ্যন্তরে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেন।
গণসমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন কমরেড খালেকুজ্জামান, টিপু বিশ্বাস, ডা. জসিম উদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ টিপু সুলতান, শহিদুল ইসলাম, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, মীর সরাফত আলী সপু প্রমুখ।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
