অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বহুল আলোচিত বৈঠকটি শুক্রবার (১৩ জুন) লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পার্ক লেনের একটি হোটেলে এ বৈঠক চলে। বৈঠক শেষে হাস্যোজ্জ্বল মুখে হোটেল থেকে বের হতে দেখা যায় তারেক রহমানকে।
এই বৈঠককে ঘিরে দেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। বৈঠকের পর এক যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে ড. ইউনূস ও তারেক রহমান জানান, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে ২০২৬ সালের রমজান শুরুর আগের সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে, তবে তার আগে সংবিধান, বিচার ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের মতো প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।
বৈঠকটি সম্পর্কে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট অলি আহমদ বলেন, "দুজনের আলোচনার মধ্য দিয়ে সমঝোতা হলে দেশ উপকৃত হবে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের পূর্বে অন্ততপক্ষে ৫০ শতাংশ সংস্কার হলে তা ইতিবাচক হবে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, "এই বৈঠকের মাধ্যমে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর করার একটা সুযোগ তৈরি হয়েছে। বোঝাপড়ার জায়গায় আমরা পৌঁছাতে পারছি।"
কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন সম্ভব। তবে প্রধান উপদেষ্টার লন্ডন সফর এবং নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের উপস্থিতি নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে বলেই মনে করছি। সরকার ও বিএনপির মধ্যে সন্দেহ-অবিশ্বাস দূর করতে এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বৈঠককে গণতন্ত্রের পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, "নির্বাচনের সময় এগিয়ে আনলে সংস্কার প্রক্রিয়া জোরদার হবে।"
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া জানান, জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়া আবহাওয়াগতভাবে ভালো। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির মতে, "নির্বাচনের সময় নির্ধারণ হলে সমঝোতার পথ প্রশস্ত হবে। রমজানের আগেই নির্বাচন হলে জনগণ উপকৃত হবে।"
তবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, নির্বাচনের আগে শহীদ পরিবারসহ বিভিন্ন দলের মতামত গ্রহণ করা উচিত। জুলাই সনদ, বিচার ও ইসি পুনর্গঠন করতে হবে।
দক্ষিণাঞ্চলের এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ফেসবুক পোস্টে বলেন, “বৈঠকটি ইতিবাচক হলেও অভ্যুত্থান-পরবর্তী বিচার ও সংস্কার ইস্যু যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।”
এই বৈঠকের পর রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের আশার আলো দেখছেন অনেকেই। এখন দেখার বিষয়, আলোচনার ভিত্তিতে কবে নাগাদ একটি নির্দিষ্ট নির্বাচন পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয় এবং সেটি কতটা অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য হয়।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
