চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে সর্বমোট ১৯ কোটি ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৩০৭ টাকার মাদক, স্বর্ণ, রূপা ও বিভিন্ন চোরাচালান দ্রব্য জব্দ করেছে।
বিজিবি-৬ এর অতিরিক্ত পরিচালক ও উপ-অধিনায়ক মেজর মাসুদ হায়দার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, উক্ত সময়ে সীমান্ত এলাকায় ২ হাজার ৪৭৮ বোতল মদ, ৩ হাজার ৭৬৪ বোতল ফেন্সিডিল, ১৩৭.৪ কেজি গাঁজা, ১১৬টি ইয়াবা, ১ কেজি কোকেন, ১.৮৫৫৫ কেজি হেরোইন, ১৮ হাজার ৭৮৩টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ৮৭৮টি ভায়াগ্রা, ২৭৯টি নেশাজাতীয় ইনজেকশনসহ মোট ৩ কোটি ৯৩ লাখ ২২ হাজার ৯৯৪ টাকার মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।
এছাড়াও, ১৪ জানুয়ারি থেকে শুরু করে একাধিক অভিযানে মোট ১১ কেজি ৩৬৩.৭৪ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য ১২ কোটি ৫৩ হাজার ৯২৬ টাকা।
তাছাড়া ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৮ এপ্রিল ও ৯ জুলাইয়ের পৃথক অভিযানে মোট ৩৬ কেজি ১৩৩ গ্রাম রূপা জব্দ করা হয়, যার মূল্য ৮০ লাখ ৬০ হাজার ৩৮৭ টাকা।
অভিযানের অংশ হিসেবে ছয়টি যৌথ টাস্কফোর্স অভিযানে অবৈধ কারেন্ট জাল, ভারতীয় পেঁয়াজ ও পাটের বীজ, কীটনাশক এবং অবৈধ করাতকল থেকে বিপুল পরিমাণ কাঠ জব্দ করা হয়, যার আর্থিক মূল্য ১ কোটি ৪১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।
সীমান্ত এলাকায় নজরদারি চালিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার সময় ৪ জন এবং ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ১০ জন বাংলাদেশি ও ১ জন ভারতীয় নাগরিককে আটক করে বিজিবি।
এ সময় ১টি ওয়ান শুটার গান এবং ২ রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করা হয়েছে।
চলতি বছরের ঈদুল আযহা উপলক্ষে সীমান্তে গরু চোরাচালান ও কোরবানির পশুর চামড়া পাচার রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখে। ফলে কোনো চোরাচালান ঘটেনি।
অন্যদিকে, ২৫ মে, ২৭ মে, ২০ জুন ও ১৪ জুন মোট ৬৭ জন অবৈধভাবে ভারতে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিককে বিএসএফ বাংলাদেশে পুশ-ইন করে। তবে বিজিবির তৎপরতায় তারা সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেনি এবং যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তাদের থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। মেজর মাসুদ হায়দার বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং মানব পাচার রোধে বিজিবি চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
