জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ অধিবেশনে বিশ্বের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা একত্রিত হয়েছেন। শান্তি, উন্নয়ন ও মানবাধিকার সুরক্ষা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বিশ্বনেতাদের বক্তব্যে গুরুত্ব পাচ্ছে চলমান সংঘাত ও যুদ্ধের বিষয়টি। অধিবেশনের মূল পর্বে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসও।
আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনসহ বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংঘাত ও লড়াইয়ের বিষয়। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্টোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, আমরা বেপরোয়া, বিশৃঙ্খলা ও মানবিক দুর্ভোগের যুগে প্রবেশ করেছি। শান্তি ও উন্নয়নের পথগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গাজার ভয়াবহতা ইতোমধ্যেই তৃতীয় বছরের দিকে এগোচ্ছে এ সবই মৌলিক মানবতাকে অবজ্ঞা করার ফল।
এদিকে অধিবেশনে বিশেষ নজর কাড়েন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বক্তৃতায় সংঘাত মোকাবিলায় ব্যর্থতার দায় চাপান জাতিসংঘের ওপর। তিনি বলেন,জাতিসংঘের অসাধারণ সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু সংঘাত বন্ধে এটি অকার্যকর। তাই আমাকে এগোতে হয়েছে আমি সাতটি যুদ্ধ থামিয়েছি। এজন্য আমি নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য।
ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে আগের অবস্থানেই অনড় থাকেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন গাজার যুদ্ধ অবশ্যই বন্ধ হওয়া উচিত। তবে ফিলিস্তিনকে স্বাধীনতার স্বীকৃতি দেওয়া মানে হামাসের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে পুরস্কৃত করা। ৭ অক্টোবরের ঘটনা আমরা ভুলতে পারি না।
অন্যদিকে গাজার পরিস্থিতিকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়েপ এরদোগান। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নীরবতা ভাঙার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,গাজায় যা চলছে তা সম্পূর্ণ গণহত্যা। সবই ৭ অক্টোবরের ঘটনার অজুহাতে চালানো হচ্ছে। অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে, হামলা বন্ধ করতে হবে এবং মানবিক সাহায্য বাধাহীনভাবে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। একইসঙ্গে গণহত্যায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যানালিনা বেয়ারবক। প্রায় দেড়শ দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানসহ প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন এই অধিবেশনে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
