প্রেম ও রোমান্স-ভিত্তিক নাটক-সিনেমা নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধের আইনি নোটিশের বিরুদ্ধে দেশের বিনোদন অঙ্গনের ৭টি শীর্ষ সংগঠন যৌথ প্রতিবাদ জানিয়েছে।
গত ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর পর টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের শিল্পী ও কলাকুশলীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এই নোটিশ পাঠান।
নোটিশে দাবি করা হয়, অতিরিক্ত রোমান্টিক কনটেন্ট তরুণ সমাজকে বিপথগামী করছে এবং পারিবারিক মূল্যবোধ নষ্ট করছে। তাই প্রেম-রোমান্স নির্ভর নাটক-সিনেমা বন্ধ করার আহবান জানানো হয়। এছাড়াও আগামী ১০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে হাইকোর্টে রিট করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এই নোটিশের জবাবে ডিরেক্টরস গিল্ড, অভিনয়শিল্পী সংঘ সহ ৭টি সংগঠন একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানায়।
তাদের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি সম্পূর্ণ সৃজনশীল মাধ্যমের নির্দিষ্ট একটি ধারা (রোমান্স) বন্ধের উদ্যোগ টেলিভিশন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
প্রতিবাদ লিপিতে আরও বলা হয়, রোমান্টিক নাটক বা সিনেমা সামগ্রিকভাবে বন্ধের দাবি সৃজনশীল শিল্পের বিকাশের সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিবৃতিতে তারা বিনোদন অঙ্গনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সৃজনশীল স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক ভূমিকা প্রত্যাশা করেছেন।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন-
১. শহীদুজ্জামান সেলিম ও ফরিদুল হাসান (ডিরেক্টরস গিল্ড বাংলাদেশ)
২. আজাদ আবুল কালাম ও রাশেদ মামুন অপু (অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ)
৩. শিহাব শাহীন ও মেজবাহ উদ্দিন সুমন (টেলিভিশন নাট্যকার সংঘ)
৪. সাহিল রনি (ক্যামেরাম্যান এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ)
৫. সাদেক সিদ্দিকী (অডিও-ভিজ্যুয়াল টেকনিক্যাল ওনার্স এসোসিয়েশন)
৬. রাজ্জাক রাজ (টেলিভিশন অ্যাসিস্টেন্ট ডিরেক্টরস অর্গানাইজেশন)
৭. মাহবুব রহমান মানিক (বাংলাদেশ মেকআপ আর্টিস্ট এসোসিয়েশন

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
