২০২২ সালে শেষ হয়েছে কিশোরগঞ্জ পৌর মার্কেটের ভবন নির্মাণ কাজ। তিন বছর অতিবাহিত হতে চললেও এখনও বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি ব্যবসায়ীদের। জানালার গ্লাস ভেঙ্গে পড়াসহ ফাটল ধরেছে ভবনে, খুলে পড়ছে রংয়ের পলেস্তরা। নষ্ট হচ্ছে জিনিসপত্র। ব্যবহার হচ্ছে পৌরসভার গোডাউন হিসেবে। মার্কেট চালু করার জন্য বার বার কর্তৃপক্ষের কাছে গেলেও বিভিন্ন অযুহাত দাঁড় করিয়ে পিছিয়ে দেওয়া হয় ভবন উদ্বোধনের সময়। দ্রুত দোকান বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন পৌর কর্তৃপক্ষ।
২০১৯ সালে কিশোরগঞ্জ পৌর মার্কেটে ভবন নির্মাণ কাজ হাতে নেয় কিশোরগঞ্জ পৌরসভা। এশিয়ান ডেভেলপম্যান্ট ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২২ সালে দুতালা মার্কেটের কাজ শেষ হলেও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দোকান বণ্টন ও ভবন হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। দীর্ঘসূত্রতায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। নতুন ভবন বুঝিয়ে দেওয়ার আগেই ভেঙ্গে গেছে জানালার গ্লাস। খসে পড়ছে রংয়ের পলেস্তরা, ফাটল ধরেছে ভবনে। অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে ভবনের আসবাবপত্রসহ নানা সরঞ্জাম। ব্যবসায়ীদের দোকান বুঝিয়ে না দিয়ে গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করছে পৌর কর্তৃপক্ষ। যে কারনে ঝড়, বৃষ্টি ও প্রচন্ড গরমের মধ্যেও ব্যাবসায়ীরা কষ্ট করছেন । মার্কেট চালু না হওয়ায় বেচাকেনা একেবারেই কমে গেছে । পরিবার নিয়ে কষ্টে জীবন যাপন করছেন অনেকেই । এতে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি এশিয়ান ডেভেলপম্যান্ট ব্যাংককে চক্রবৃদ্ধি হারে রাজস্ব থেকে ১৫ পার্সেন্ট লভ্যাংশ দিচ্ছে পৌর কর্তৃপক্ষ। স্বাধীনতার পর থেকে জেলার অন্যতম পাইকারি বাজার হিসেবে পরিচিত এই মার্কেটে রয়েছে কসমেটিক্স, খেলনা, সুতা ও কাপড়ের মোট ১৫৬টি দোকান। সপ্তাহে দুই দিন এখানে বসে ছাগলের হাট, ফলে সেসব দিনে ভোগান্তির মাত্রা আরও বেড়ে যায়। দোকান না পেয়ে এখনো ছাপড়ি ঘরে ব্যবসা চালিয়ে যেতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
বার বার পৌর কৃর্তপক্ষের কাছে গিয়েও কোন সমাধান হচ্ছে না বলে জানান কিশোরগঞ্জ পৌর মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক, মনোয়ার হোসেন পলাশ, ও সভাপতি লুৎফুল বারী খোকন ।
কিশোরগঞ্জ পৌর প্রশাসক জেবুন নাহার শাম্মী জানান, ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের সঠিক তালিকা না থাকায় বুঝিয়ে দিতে বিলম্ব হচ্ছে । তবে আমরা চেষ্টা করবো খুব তাড়াতাড়ি যেন দোকানগুলো বুঝিয়ে দিতে পারি
তথ্য অনুযায়ী, পৌরসভার অধিনে প্রায় ২ একর ২০ শতাংশ জায়গা জোড়ে ছোট-বড় দোকান থেকে প্রতি মাসে দোকান ভাড়া বাবদ পৌরসভা প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা রাজস্ব পাওয়ার কথা ।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
