ছোটখাটো বিরোধ স্থানীয় পর্যায়েই নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব
গ্রাম আদালতকে আরও কার্যকর ও সক্রিয় করা গেলে ছোটখাটো বিরোধ স্থানীয় পর্যায়েই দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। এতে সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশের আদালতগুলোতে মামলাজট কমাতে সহায়ক হবে বলে মন্তব্য করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন।
সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ‘গ্রাম আদালত কার্যক্রম’ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, সিলেটের উপপরিচালক মাহমুদা সুলতানা।
জেলা প্রশাসক বলেন, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে আইনের নির্ধারিত সীমার মধ্যে কিছু দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ স্থানীয় পর্যায়ে নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। কিন্তু গ্রাম আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও পর্যাপ্ত ধারণা নেই। ফলে ছোটখাটো বিরোধের সমাধানেও অনেককে দূরের আদালতে যেতে হয়।
তিনি বলেন, বর্তমানে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত নির্দিষ্ট আর্থিক দাবি বা ক্ষতিপূরণ-সংক্রান্ত বিষয়ে আদেশ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। গ্রাম আদালতের কার্যক্রম ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এতে মামলা, সাক্ষ্য, সিদ্ধান্ত ও রায়ের তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনের সময় নথি সরবরাহ সহজ হবে।
আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে গ্রাম আদালত কার্যকরভাবে কাজ করলে ছোটখাটো বিরোধের একটি বড় অংশ সেখানেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার ওপর চাপও কমবে।
গ্রাম আদালত সম্পর্কে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের জ্ঞান ও ধারণা আরও সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সঠিক তথ্য দিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।
সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদা সুলতানা গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় গ্রাম আদালতের এখতিয়ার, মামলা নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
উল্লেখ্য, গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬-এর আওতায় ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্দিষ্ট কিছু দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ সহজ ও দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। ২০২৪ সালের সংশোধনের মাধ্যমে গ্রাম আদালতের আর্থিক এখতিয়ারের সীমা তিন লাখ টাকা করা হয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
