ভৈরবে শ্রী- নগরে ফারজানা আক্তার মিমের আত্মহত্যার ঘটনায় নিহতের বাবা জীবন মিয়া বাদী হয়ে ইতালী প্রবাসী পাভেল ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও মামলা প্রত্যাহারে ১০ লাখ টাকা দাবীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভোক্তভোগী দুলাল মিয়া ও তার পরিবার । ভোক্তভোগী পরিবারের আয়োজনে আজ শনিবার দুপুরে ভৈরব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে দুলাল মিয়া ও তার ভাই হাসান মিয়া ঘটক খোকন মিয়া জানান ৭/৮ মাস আগে একই গ্রামের দুলাল মিয়ার পুত্র ইতালী প্রবাসী পাভেল মিয়ার সাথে জীবন মিয়ার কন্যা ফারজানা আক্তার মিমের বিয়ের কথা পাকাপাকি হয়। এবং ছেলের পরিবার মীমকে একটি আংটি পরিয়ে দেয়। এরপর থেকেই পাভেল ইতালি থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মীমের সাথে যোগাযোগ রাখছিলেন। সম্পর্কের এক পর্যায়ে পাভেল মীমের কাছে মোবাইল ফোনে নগ্ন ছবি ও অনৈতিক আবদার করেন। মীম সেই দাবি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করায় উভয়ের মধ্যে মনোমালিন্য ও ঝগড়া শুরু হয়।
এর জেরে পাভেল তার পরিবারকে দিয়ে মীমের পরিবারের নিকট থেকে আংটি, উপহার এবং নগদ টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। স্থানীয়ভাবে দেনদরবারের মাধ্যমে মীমের পরিবার উপহার ও নগদ টাকা ফেরত দিলেও চরম অপমান ও মানসিক আঘাত সহ্য করতে না পেরে গত ২৬ আগস্ট রাতে নিজ ঘরে ইঁদুরের বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন মীম।
নিহতের নানা জালাল উদ্দিন জানান, পাভেলের সাথে ৭ মাস আগে তার নাতনীর বিয়ের কথাবার্তা চূড়ান্ত হয়েছিল। ইতালি থেকে ফিরে পাভেলের আনুষ্ঠানিকভাবে মীমকে ঘরে তুলে নেওয়ার কথা ছিল। তিনি জানান, পাভেলের পাঠানো খরচের টাকা ও মোবাইল নিয়ে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে দেনদরবার করে গত দুই দিন আগে মোবাইল ফোন ও নগদ ২৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়। এই চরম অপমানে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে মীম গত মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাতে বিষপান করে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অবস্থার অবনতি হলে বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। পরে বৃহস্পতিবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
